পরাজিত হয়েও থেমে নেই আওয়ামী লীগ। মাঠের রাজনীতিতে কোণঠাসা হয়ে এবার তারা বেছে নিয়েছে ডিজিটাল অন্ধকারের পথ। ফেইক আইডি, ভুয়া ফটোকার্ড আর মিথ্যা তথ্যের ছড়াছড়িতে সোশ্যাল মিডিয়াকে রীতিমতো যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করেছে তারা। এই গভীর ষড়যন্ত্রের বিষয়ে দেশবাসীকে কঠোর ভাষায় সতর্ক করলেন বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক শরীফ খান।
ষড়যন্ত্রের নীলনকশা ফাঁস,
শরীফ খান জানান, আওয়ামী লীগ তাদের বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষণে চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত হয়েছে যে মূলধারার সংবাদমাধ্যম সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখার পরেও সোশ্যাল মিডিয়াই ছিল তাদের ঐতিহাসিক পতনের মূল চালিকাশক্তি। তাই এবার তারা সেই একই অস্ত্র — সোশ্যাল মিডিয়া — কে পাল্টা ষড়যন্ত্রের হাতিয়ার বানাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।
তিনি বলেন,”এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটি একটি সুপরিকল্পিত, সুসংগঠিত এবং সুঅর্থায়িত ডিজিটাল অপারেশন।”
যেভাবে চলছে এই ঘৃণ্য অপারেশন,
বিশ্লেষক শরীফ খান জানান, এই অপারেশনের আওতায় আওয়ামী লীগ ও তাদের ডিজিটাল সেল —
ছাত্রশিবির, ছাত্রদল, জামায়াত, বিএনপি, এনসিপি এবং বিভিন্ন হেফাজত ও আলেম সমাজের নামে শত শত ভুয়া ও বেনামি ফেইক অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করছে।
– এসব আইডি থেকে উসকানিমূলক, মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর ফটোকার্ড তৈরি করে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিচ্ছে।
– ইচ্ছাকৃতভাবে দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস ও দ্বন্দ্ব তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
– নেতাকর্মীদের উত্তেজিত করে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া আদায়ের ফাঁদ পাতছে।
বিপজ্জনক ফাঁদে পড়ছেন নিজেরাই,
শরীফ খান তীব্র উদ্বেগের সাথে জানান, অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো এই পরিকল্পিত ফাঁদে পা দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট দলগুলোরই একাংশের নেতাকর্মী। না বুঝেই তারা এসব ভুয়া কন্টেন্ট শেয়ার করছেন, মন্তব্য করছেন এবং উত্তেজিত হয়ে পদক্ষেপ নিচ্ছেন।
তিনি সরাসরি প্রশ্ন ছুড়ে দেন — আপনি কি জানেন, যে ফটোকার্ডটি আপনি এইমাত্র শেয়ার করলেন, সেটি হয়তো তৈরি করেছে আওয়ামী লীগের একজন ডিজিটাল অপারেটর? আপনি শত্রুর হাতিয়ার নিজেই বহন করছেন!”
কঠোর হুঁশিয়ারি,
শরীফ খান এই বিষয়ে কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন —
যারা যাচাই না করে এই ফাঁদে পা দিচ্ছেন, তারা অজান্তেই ফ্যাসিস্ট শক্তির পুনরুত্থানের পথ তৈরি করে দিচ্ছেন। আগামীতে যদি এই ফ্যাসিস্ট শক্তি পুনরায় ক্ষমতায় আসে, তাহলে তার দায় শুধু আওয়ামী লীগের নয় — সেই দায় বর্তাবে তাদের উপরেও, যারা সত্য যাচাই না করেই শত্রুর ফাঁদে পা দিয়েছিলেন।”
যা করতে হবে এখনই,
শরীফ খান সংশ্লিষ্ট সকল দলের উচ্চপদস্থ নেতৃবৃন্দের প্রতি জরুরি ভিত্তিতে নিম্নোক্ত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান,
১.যেকোনো ফটোকার্ড বা তথ্য প্রকাশের আগে উৎস যাচাই করুন।
২.ফেইক আইডি শনাক্তে দলীয়ভাবে একটি যাচাই সেল গঠন করুন
৩.তাৎক্ষণিক আবেগ ও উত্তেজনায় কোনো বিবৃতি বা পদক্ষেপ নেবেন না।
৪.সন্দেহজনক কন্টেন্ট সরাসরি রিপোর্ট করুন এবং নেতৃবৃন্দকে অবহিত করুন।
৫.নেতাকর্মীদের মধ্যে ডিজিটাল সচেতনতা বৃদ্ধিতে তাৎক্ষণিক উদ্যোগ নিন।
বিশ্লেষকের শেষ কথা,
শরীফ খান বলেন, গণঅভ্যুত্থানে যে জনতা ফ্যাসিস্টকে পরাজিত করেছে, তাদের সেই বিজয়কে ডিজিটাল অসচেতনতায় নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না। এটি এখন শুধু রাজনীতির লড়াই নয় — এটি তথ্যের লড়াই, সচেতনতার লড়াই। এই লড়াইয়ে পরাজিত হলে মাঠের সব অর্জন ধুলোয় মিশে যাবে।”