হাসান আলী:
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঢাকা-৫ নির্বাচনী এলাকায় বইছে উৎসবমুখর পরিবেশ। এই নির্বাচনী লড়াইয়ে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব নবী উল্লাহ নবী আজ দিনভর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৬৭নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ ও নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন।
উৎসাহ-উদ্দীপনায় গণসংযোগ
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই নবী উল্লাহ নবী তাঁর কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে ৬৭নং ওয়ার্ডের শুকরসি ও দারুন্নাজাত এলাকাসহ বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় সাধারণ ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যান। গণসংযোগকালে তিনি ভোটারদের সাথে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন। এ সময় তাঁর সাথে উপস্থিত ছিলেন তাঁর চীফ নির্বাচনী এজেন্ট এবং নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ফেরদৌস হোসেন রনি। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি ওয়ার্ড সভাপতি জয়নাল সাহেব, সাধারণ সম্পাদক দুলাল মেম্বার এবং স্থানীয় বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলমসহ দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী।
জনগণের ভোগান্তি ও স্থানীয় সমস্যা
গণসংযোগকালে নবী উল্লাহ নবী স্থানীয় বাসিন্দাদের মুখোমুখি হলে তারা এলাকার দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন। ভোটাররা অভিযোগ করেন যে, সামান্য বৃষ্টিতেই এলাকাটি জলাবদ্ধতার শিকার হয়, যা দৈনন্দিন জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে চলমান গ্যাস সংকট, বিশুদ্ধ পানির অভাব এবং জরাজীর্ণ রাস্তাঘাট নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা যায়। বিশেষ করে শিক্ষিত বেকারদের জন্য কর্মসংস্থানের অভাবকে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেন স্থানীয়রা।
প্রার্থীর প্রতিশ্রুতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
ভোটারদের অভাব-অভিযোগ ধৈর্য সহকারে শুনে নবী উল্লাহ নবী তাদের আশ্বস্ত করেন। পথসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন:
“আপনারা আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করলে আমার প্রথম কাজ হবে এই এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন এবং গ্যাস-পানির সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা। ঢাকা-৫ আসনকে একটি আধুনিক, বাসযোগ্য এবং পরিকল্পিত এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে আমি আপনাদের সাথে নিয়ে কাজ করব।”
তিনি আরও যোগ করেন যে, বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা তাঁর নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
ভোটারদের কাছে আবেদন
প্রচারণার শেষ পর্যায়ে নবী উল্লাহ নবী আসন্ন নির্বাচনে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে ভোট দিয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান। তিনি সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ বজায় রাখার জন্য প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এলাকার সাধারণ ভোটারদের মধ্যে নবী উল্লাহ নবীর এই গণসংযোগ ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবং স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে তিনি কতটুকু সফল হন, তা এখন আগামী নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে।