স্টাফ রিপরতার:
ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাধীন সোহেল ইকুড়িয়া বাজার এলাকায় এক ডিস ব্যবসায়ী সোহেলের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, বিচার-শালিশের নামে প্রভাব বিস্তার, মাদক ও জুয়া ব্যবসায় সংশ্লিষ্টতা এবং অন্যের জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, ৫ আগস্টের পর নিজেকে বিএনপির বড় নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন তিনি।
অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে সোহেল ইকুড়িয়া বাজার ও আশপাশের এলাকায় বিভিন্নভাবে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। তার বিরুদ্ধে অন্যের জমি দখলেরও অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি নিজের এক নিকট আত্মীয়ের জমি তার এক ভাইয়ের নামে পাওয়ার নিয়ে দখলে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে ওই জমি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে ভুয়া রেজিস্ট্রির মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগীদের দাবি, জমি বিক্রির পর বিষয়টি জানতে পেরে তারা প্রতারণার শিকার হওয়ার অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা নেন। এ ঘটনায় আটজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে বলে জানা গেছে। মামলার পর সোহেলের এক ভাই বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন বলে অভিযোগকারীদের দাবি। তবে মামলার অন্য আসামিদের এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে, কয়েক দিন আগে সোহেলের এক সহযোগী মাদকসহ গ্রেপ্তার হয়েছে বলেও স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে। তার আরেক ভাই অপহরণের ঘটনায় হাতেনাতে আটক হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের নেপথ্যে সোহেলের প্রভাব রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, সোহেলের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি প্রকাশ্যে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি দাবি করেন, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার বর্তমান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে সোহেলের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। তাদের অভিযোগ, সোহেলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ সম্পর্কে অবগত থাকার পরও তার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
এ ছাড়া সোহেলের কার্যালয়ে বসে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হওয়ার অভিযোগ থাকলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সোহেলের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে তা সংযুক্ত করা হবে।