দুই পোটলা গাঁজার জন্য দুই হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ যাত্রাবাড়ী থানার এসআই কাউসারের বিরুদ্ধে

স্টাফ রিপোর্টার: 

মাদক নির্মূল করতে না পারলে কোনোভাবেই দেশের যুবসমাজকে রক্ষা করা সম্ভব নয়। যুবসমাজ ধ্বংস হয়ে গেলে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মও বিপন্ন হয়ে পড়বে। তাই যে করেই হোক মাদক নির্মূল করা জরুরি। বিএনপির চেয়ারপারসন ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের স্বার্থে মাদকবিরোধী কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন।

দীর্ঘ সতেরো বছর বিদেশে অবস্থানের পর তিনি দেশে ফিরে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং যুবসমাজকে রক্ষায় মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণাকে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কাজ করে যাচ্ছেন। তবে কিছু অসাধু পুলিশ সদস্যের কর্মকান্ডে পুরো বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হোক—এটা কাম্য নয়।

অভিযোগ রয়েছে, গতকাল দিবাগত রাত ১টা ৩০ মিনিট থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত রাজধানীর দয়াগঞ্জ মোড়ে চেকপোস্টের নামে বিভিন্ন গাড়ি, বাস ও ট্রাকচালকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করেন এসআই কাউসার ও এএসআই রমজান। শরীয়তপুর থেকে আসা একটি পিকআপ ভ্যানের চালকের কাছ থেকে দুই পোটলা গাঁজা উদ্ধারের পর শুরু হয় দেনদরবার।

এক পর্যায়ে দুই হাজার টাকার বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, পিকআপের হেলপার রাব্বির মোবাইল থেকে বিকাশ নম্বর (০১৭৩৬৮১০২১৩) ব্যবহার করে মামুন (০১৯৭৭১৮৮৮৮২) নামে এক বিকাশ এজেন্টের কাছে টাকা পাঠানো হয়। পরে সেই টাকা এএসআই রমজানের নম্বর (০১৮৭৬৬৩৯৩৯০)—এ পৌঁছায়।

কিছুক্ষণ পর চেকপোস্ট চলাকালে আরেকটি পিকআপের চালকের কাছ থেকে চার পোটলা গাঁজা উদ্ধার করা হয়। সেখানেও নগদ ৩৫০০ টাকার বিনিময়ে আপসের অভিযোগ উঠেছে।

এছাড়া এক পথচারী সুমনের কাছ থেকে ১০ কেজি পিতল উদ্ধার করা হলেও তা থানায় জমা না দিয়ে বাজারে বিক্রির জন্য পাঠানো হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে যাত্রাবাড়ী থানা—এর ওসি বলেন, “চেকপোস্ট ছিল না। কেন, কী হয়েছে বলেন আমাকে?” ওয়ারী বিভাগের ডিসিকে ফোন করা হলে তিনি জানান, তিনি একটি মিটিংয়ে আছেন এবং পরে কথা বলবেন।

বর্তমানে দেশে মাদকবিরোধী অভিযান চললেও অভিযোগ রয়েছে—প্রায়ই ছোটখাটো ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হয়, কিন্তু বড় মাদক ব্যবসায়ীরা থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। যাত্রাবাড়ী কাঁচাবাজার এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক বিক্রির অভিযোগও রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, পুলিশের এক সোর্স ‘গোলাপ’ উদ্ধারকৃত মাদক কিনে কাঁচাবাজারে বিক্রি করে এবং তার নেতৃত্বে একটি বড় মাদক সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। যাত্রাবাড়ী ও কদমতলী থানা এলাকার মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা শিগগিরই দৈনিক স্বাধীন সংবাদে প্রকাশ করা হবে বলে জানা গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *