আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে সম্পর্কের টানাপোড়েন থাকলেও দুই দেশের মধ্যে আবারও ঘনিষ্ঠতা বাড়ার ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, ইরান ও হুথিদের হুমকি এবং উপসাগরীয় সহযোগিতার বিষয়গুলোতে দুই দেশ নিজেদের অবস্থান সমন্বয়ের চেষ্টা করছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর রিয়াদে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও উপপ্রধানমন্ত্রী শেখ মনসুর বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। বৈঠকে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ন্যাশনাল’ জানিয়েছে, এই সফর সৌদি আরব ও আমিরাতের দীর্ঘদিনের অংশীদারত্বের প্রতিফলন। দুই দেশ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা বিষয়ে সহযোগিতা বজায় রেখে আসছে এবং অভিন্ন স্বার্থের বিষয়গুলোতে উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে।
তবে ইয়েমেনসহ বেশ কয়েকটি আঞ্চলিক ইস্যুতে অতীতে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল। ইয়েমেন যুদ্ধে সৌদি আরব দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারকে সমর্থন করলেও সংযুক্ত আরব আমিরাত দক্ষিণাঞ্চলীয় গোষ্ঠী ‘সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল’কে (এসটিসি) সহযোগিতা করেছে। এ ছাড়া সুদান, ইরান, অর্থনৈতিক নীতি ও তেলের উৎপাদনসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়েও দুই দেশের অবস্থানে পার্থক্য দেখা গেছে।
সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুটি দুই দেশের মধ্যে সমন্বয়ের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করছে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর আবুধাবি সফরের পরদিনই মনসুর বিন জায়েদ সৌদি আরব সফর করেন। ইসরাইলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বৈঠকে ইরান ও হুথিদের হুমকির মতো অভিন্ন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা কাঠামো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
ইয়েমেনের হুথিদের হামলা এবং ইরানের সঙ্গে আঞ্চলিক উত্তেজনা উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। সৌদি আরব এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সঙ্গেও এ বিষয়ে যোগাযোগ করেছে। পাশাপাশি পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগও নিয়েছে রিয়াদ।
সম্প্রতি সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি)ভুক্ত দেশগুলোর নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে পারস্পরিকভাবে সম্পৃক্ত বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা রক্ষা, কৌশলগত সহযোগিতা, অর্থনৈতিক অখণ্ডতা ও যৌথ কার্যক্রম জোরদারে ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করছে সৌদি আরব।
এর আগে জুলাই মাসেও সৌদি ও আমিরাতের সম্পর্ক নিয়ে ইতিবাচক বক্তব্য দেন সৌদি ন্যাশনাল মিডিয়া অথরিটির চেয়ারম্যান শেখ আবদুল্লাহ আল হামেদ। আগস্টে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান সৌদি বাদশাহ সালমানকে আবুধাবিতে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের পানিবিষয়ক সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানান।
বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং ইরান ও হুথিদের মতো অভিন্ন চ্যালেঞ্জ দুই দেশকে আবারও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার দিকে নিয়ে যেতে পারে। তবে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে অতীতের মতপার্থক্যগুলো পুরোপুরি দূর হয়েছে কি না, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।