ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি:
ঢাকার ধামরাইয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. তমিজ উদ্দিনকে নিয়ে অশালীন ও কটূক্তিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে সূতিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রমিজুর রহমান চৌধুরী রোমার বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। তাকে গ্রেফতারের দাবিতে দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে কৃষকদল, শ্রমিকদল, স্বেচ্ছাসেবকদলসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। এর আগে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরাও পৃথক বিক্ষোভ মিছিল করেন। এ সময় বিক্ষোভকারীদের একটাই দাবি ছিল—চেয়ারম্যান রমিজুর রহমান রোমাকে দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে। পরে তারা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলিপি প্রদান করেন। এ ঘটনায় উপজেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
জানা যায়, গত শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে সূতিপাড়া ইউনিয়নের বালিথা এলাকায় নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ ও তার দোসরদের বিরুদ্ধে উপজেলা বিএনপির মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। শোভাযাত্রা শেষে সমাপনী বক্তব্য চলাকালে চেয়ারম্যান রোমার লোকজন বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। এতে সূতিপাড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শরিফুল ইসলাম, ভূত বাবুলসহ উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন।
অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় চেয়ারম্যান রমিজুর রহমান রোমা সাংবাদিকদের সামনে সংসদ সদস্য তমিজ উদ্দিনকে মারামারির চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন এবং অশালীন ভাষায় মন্তব্য করেন। তার এমন মন্তব্যের পর ধামরাইয়ের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
এর পরদিন এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন সংসদ সদস্য তমিজ উদ্দিন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান রমিজুর রহমান রোমা আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছেন।
অন্যদিকে, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা সভায় সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ও মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ বলেন, “যাকে যে চেয়ার দেওয়া হয়েছে, তাকে সেই চেয়ারের সম্মান রক্ষা করতে হবে। চেইন অব কমান্ড মেনে চলতে হবে।”
এ ঘটনায় সূতিপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বাদী হয়ে চেয়ারম্যান রমিজুর রহমান রোমাকে প্রধান আসামি করে ১২ জনের নাম উল্লেখ করে ধামরাই থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৫০ থেকে ৬০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
মামলার অন্যান্য এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন—বাবুল হোসেন, সুলতান উদ্দিন, সোহেল, জাহিদ হোসেন বাবু, মোতালেব হোসেন, ইকরা মিয়া, মো. জালাল, নাহিদ, সাইফুল ইসলাম, সোহেল ও মোস্তাক। মামলার ১২ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি কালামপুর দলিল লেখক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল মুস্তাক। পুলিশ ইতোমধ্যে সোহেল মাহমুদ নামে এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে।
এ বিষয়ে ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুল হুদা খান বলেন, “অভিযোগের ভিত্তিতে চেয়ারম্যান রমিজুর রহমানকে প্রধান আসামি করে মামলা হয়েছে। একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারে অভিযান চলমান রয়েছে।”
এদিকে, চেয়ারম্যান রোমাকে চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও দখলদার আখ্যা দিয়ে তাকে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে অপসারণের দাবিও জানিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।
এ বিষয়ে সূতিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রমিজুর রহমান রোমার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।