মোঃআনজার শাহ:
মৎস্য উৎপাদনে অপার সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হচ্ছে কুমিল্লার বরুড়া উপজেলায়। বড় কোনো নদী না থাকলেও বিস্তীর্ণ খাল, হাজারো দীঘি-পুকুর ও বাণিজ্যিক মৎস্য খামারকে ঘিরে গড়ে উঠেছে সমৃদ্ধ মৎস্য অর্থনীতি। আধুনিক প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মাছ চাষের ফলে একদিকে যেমন বাড়ছে উৎপাদন, তেমনি কর্মসংস্থান ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও যুক্ত হচ্ছে নতুন গতি। জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উদ্যাপন: উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুরাইয়া জামান নিতু জানান, চলতি বছরের ১৬ আগস্ট বরুড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদ্যাপন করা হয়েছে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬। “রূপালি মাছে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে মৎস্য খাতের উন্নয়ন, উৎপাদন বৃদ্ধি ও চাষিদের উৎসাহিত করতে নেওয়া হয় বিভিন্ন ইতিবাচক উদ্যোগ। কর্মসূচির অংশ হিসেবে বরুড়া উপজেলা পরিষদের পুকুরে আনুষ্ঠানিকভাবে অবমুক্ত করা হয় বিভিন্ন প্রজাতির মৎস্যপোনা। পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে মৎস্য চাষে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সফল খামারি ও চাষিদের উৎসাহিত করতে দেওয়া হয় পুরস্কার। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুরাইয়া জামান নিতুর উপস্থাপনায় অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় আধুনিক মৎস্য চাষ, উৎপাদন বৃদ্ধি, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ এবং চাষিদের করণীয় বিষয়ে দেওয়া হয় আলোচনা ও দিকনির্দেশনা।
বিশাল জলসম্পদ, বাড়ছে বাণিজ্যিক চাষ:
মৎস্য চাষের জন্য বরুড়ার রয়েছে উল্লেখযোগ্য প্রাকৃতিক ও অবকাঠামোগত সম্ভাবনা। স্থানীয় তথ্য অনুযায়ী, উপজেলায় প্রায় ৭০০ হেক্টরজুড়ে বিস্তৃত রয়েছে কার্জন খাল, রয়েছে ৭ হাজারের বেশি দীঘি-পুকুর এবং অসংখ্য বাণিজ্যিক মৎস্য খামার। এসব জলাশয় ও খামারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে মাছ চাষ করে আসছেন স্থানীয় উদ্যোক্তা ও চাষিরা। বর্তমানে অনেক চাষি আধুনিক সেমি-ইনটেনসিভ পদ্ধতিতে থাই পাঙাশ, রুই, কাতলা ও মৃগেলসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করছেন। এতে স্থানীয় মানুষের মাছের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি উৎপাদিত অতিরিক্ত মাছ সরবরাহ করা হচ্ছে পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলায়। বরুড়ার থাই কৈ মাছও দেশের বাজারে পেয়েছে ব্যাপক পরিচিতি। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সুস্বাদু এই থাই কৈ দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশের বাজারেও রপ্তানি হওয়ার সুনাম রয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। উৎপাদন খরচ কমাতে নীতিগত সহায়তার প্রত্যাশা মৎস্য খাতকে আরও এগিয়ে নিতে জাতীয় পর্যায়েও নেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন উদ্যোগ। এর মধ্যে রয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে মাছ ও পশুখাদ্য উৎপাদনসহ সংশ্লিষ্ট খাতে বিদ্যুৎ ভর্তুকির উদ্যোগ। প্রস্তাবিত ১০০ কোটি টাকার এই বিদ্যুৎ ভর্তুকি মৎস্য ও সংশ্লিষ্ট খাতের উদ্যোক্তাদের উৎপাদন ব্যয় কমাতে সহায়ক হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এর সুফল বরুড়ার মৎস্যচাষিরাও পেতে পারেন বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের। এ ছাড়া উৎপাদিত মাছ ও অন্যান্য মৎস্যপণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে স্থানীয় পর্যায়ে প্রসেসিং ও প্যাকেজিং সেন্টার স্থাপনেরও পরিকল্পনা রয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে মাছ সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, বাজারজাতকরণ এবং মূল্য সংযোজনের সুযোগ বাড়বে। একই সঙ্গে চাষিরা উৎপাদিত মাছের আরও ভালো দাম পাওয়ার সুযোগ পাবেন। চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নজরদারি ও সচেতনতা: বরুড়ার মৎস্য খাতের সম্ভাবনার পাশাপাশি রয়েছে কিছু চ্যালেঞ্জও। দেশীয় প্রজাতির মাছ সংরক্ষণ, অবৈধ ও নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার বন্ধ, জলাশয়ের পরিবেশ রক্ষা এবং মাছের রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত নজরদারি ও জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। উপজেলা মৎস্য কার্যালয়ের পক্ষ থেকে অবৈধ জাল ও নিষিদ্ধ পদ্ধতিতে মাছ শিকার বন্ধে অভিযান পরিচালনা, দেশীয় প্রজাতির মাছ সংরক্ষণ এবং চাষিদের আধুনিক পদ্ধতি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ওপর দেওয়া হচ্ছে বিশেষ গুরুত্ব। সুরাইয়া জামান নিতু বলেন, বরুড়ার মৎস্য খাতকে আরও সমৃদ্ধ করতে চাষিদের আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত করা, উৎপাদন বাড়ানো এবং বাজার ব্যবস্থাপনা উন্নত করা প্রয়োজন।
পাশাপাশি তরুণদের মৎস্য চাষে সম্পৃক্ত করা গেলে এই খাতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে বলে জানান তিনি। তাঁর মতে, পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, সরকারি সহায়তা এবং চাষিদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলে বরুড়ার মৎস্যনদী নেই তবু মৎস্য সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত, খাল-দীঘি-পুকুরকে ঘিরে সমৃদ্ধ হচ্ছে বরুড়ার অর্থনীতি সুরাইয়া জামান নিতু মৎস্য উৎপাদনে অপার সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হচ্ছে কুমিল্লার বরুড়া উপজেলায়। বড় কোনো নদী না থাকলেও বিস্তীর্ণ খাল, হাজারো দীঘি-পুকুর ও বাণিজ্যিক মৎস্য খামারকে ঘিরে গড়ে উঠেছে সমৃদ্ধ মৎস্য অর্থনীতি। আধুনিক প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মাছ চাষের ফলে একদিকে যেমন বাড়ছে উৎপাদন, তেমনি কর্মসংস্থান ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও যুক্ত হচ্ছে নতুন গতি। জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উদ্যাপন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুরাইয়া জামান নিতু জানান, চলতি বছরের ১৬ আগস্ট বরুড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদ্যাপন করা হয়েছে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬। “রূপালি মাছে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে মৎস্য খাতের উন্নয়ন, উৎপাদন বৃদ্ধি ও চাষিদের উৎসাহিত করতে নেওয়া হয় বিভিন্ন ইতিবাচক উদ্যোগ। কর্মসূচির অংশ হিসেবে বরুড়া উপজেলা পরিষদের পুকুরে আনুষ্ঠানিকভাবে অবমুক্ত করা হয় বিভিন্ন প্রজাতির মৎস্যপোনা। পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে মৎস্য চাষে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সফল খামারি ও চাষিদের উৎসাহিত করতে দেওয়া হয় পুরস্কার। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুরাইয়া জামান নিতুর উপস্থাপনায় অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় আধুনিক মৎস্য চাষ, উৎপাদন বৃদ্ধি, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ এবং চাষিদের করণীয় বিষয়ে দেওয়া হয় আলোচনা ও দিকনির্দেশনা।
বিশাল জলসম্পদ, বাড়ছে বাণিজ্যিক চাষ মৎস্য চাষের জন্য বরুড়ার রয়েছে উল্লেখযোগ্য প্রাকৃতিক ও অবকাঠামোগত সম্ভাবনা। স্থানীয় তথ্য অনুযায়ী, উপজেলায় প্রায় ৭০০ হেক্টরজুড়ে বিস্তৃত রয়েছে কার্জন খাল, রয়েছে ৭ হাজারের বেশি দীঘি-পুকুর এবং অসংখ্য বাণিজ্যিক মৎস্য খামার। এসব জলাশয় ও খামারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে মাছ চাষ করে আসছেন স্থানীয় উদ্যোক্তা ও চাষিরা। বর্তমানে অনেক চাষি আধুনিক সেমি-ইনটেনসিভ পদ্ধতিতে থাই পাঙাশ, রুই, কাতলা ও মৃগেলসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করছেন। এতে স্থানীয় মানুষের মাছের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি উৎপাদিত অতিরিক্ত মাছ সরবরাহ করা হচ্ছে পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলায়। বরুড়ার থাই কৈ মাছও দেশের বাজারে পেয়েছে ব্যাপক পরিচিতি।
স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সুস্বাদু এই থাই কৈ দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশের বাজারেও রপ্তানি হওয়ার সুনাম রয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। উৎপাদন খরচ কমাতে নীতিগত সহায়তার প্রত্যাশা মৎস্য খাতকে আরও এগিয়ে নিতে জাতীয় পর্যায়েও নেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন উদ্যোগ। এর মধ্যে রয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে মাছ ও পশুখাদ্য উৎপাদনসহ সংশ্লিষ্ট খাতে বিদ্যুৎ ভর্তুকির উদ্যোগ। প্রস্তাবিত ১০০ কোটি টাকার এই বিদ্যুৎ ভর্তুকি মৎস্য ও সংশ্লিষ্ট খাতের উদ্যোক্তাদের উৎপাদন ব্যয় কমাতে সহায়ক হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এর সুফল বরুড়ার মৎস্যচাষিরাও পেতে পারেন বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের। এ ছাড়া উৎপাদিত মাছ ও অন্যান্য মৎস্যপণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে স্থানীয় পর্যায়ে প্রসেসিং ও প্যাকেজিং সেন্টার স্থাপনেরও পরিকল্পনা রয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে মাছ সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, বাজারজাতকরণ এবং মূল্য সংযোজনের সুযোগ বাড়বে। একই সঙ্গে চাষিরা উৎপাদিত মাছের আরও ভালো দাম পাওয়ার সুযোগ পাবেন। চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নজরদারি ও সচেতনতা বরুড়ার মৎস্য খাতের সম্ভাবনার পাশাপাশি রয়েছে কিছু চ্যালেঞ্জও। দেশীয় প্রজাতির মাছ সংরক্ষণ, অবৈধ ও নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার বন্ধ, জলাশয়ের পরিবেশ রক্ষা এবং মাছের রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত নজরদারি ও জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। উপজেলা মৎস্য কার্যালয়ের পক্ষ থেকে অবৈধ জাল ও নিষিদ্ধ পদ্ধতিতে মাছ শিকার বন্ধে অভিযান পরিচালনা, দেশীয় প্রজাতির মাছ সংরক্ষণ এবং চাষিদের আধুনিক পদ্ধতি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ওপর দেওয়া হচ্ছে বিশেষ গুরুত্ব। সুরাইয়া জামান নিতু বলেন, বরুড়ার মৎস্য খাতকে আরও সমৃদ্ধ করতে চাষিদের আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত করা, উৎপাদন বাড়ানো এবং বাজার ব্যবস্থাপনা উন্নত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি তরুণদের মৎস্য চাষে সম্পৃক্ত করা গেলে এই খাতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে বলে জানান তিনি। তাঁর মতে, পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, সরকারি সহায়তা এবং চাষিদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলে বরুড়ার মৎস্য খাত শুধু স্থানীয় চাহিদা পূরণেই নয়, জাতীয় অর্থনীতিতেও আরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।
বিশেষ সাক্ষাৎকারে উঠে এল সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জের পূর্ণাঙ্গ চিত্র বিশেষ সাক্ষাৎকারে বরুড়ার মৎস্য খাতের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুরাইয়া জামান নিতু। ৪১তম বিসিএসের এই কর্মকর্তা মৎস্যবিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী। তাঁর সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে বরুড়ায় মাছ উৎপাদনের বর্তমান চিত্র, চাষিদের সমস্যা ও সম্ভাবনা, অবৈধ জাল প্রতিরোধ, দেশীয় মাছ সংরক্ষণ, সরকারি উদ্যোগ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার নানা দিক। সব মিলিয়ে খাল, পুকুর, দীঘি ও বাণিজ্যিক খামারনির্ভর বরুড়ার মৎস্য খাত এখন সম্ভাবনার এক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। যথাযথ পরিকল্পনা ও সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগে এই খাত আরও বিস্তৃত হলে বরুড়ার অর্থনীতিতে যেমন আসবে নতুন গতি, তেমনি মাছ উৎপাদনে দেশের স্বনির্ভরতার লক্ষ্যও হবে আরও শক্তিশালী। খাত শুধু স্থানীয় চাহিদা পূরণেই নয়, জাতীয় অর্থনীতিতেও আরও নদী নেই তবু মৎস্য সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত, খাল-দীঘি-পুকুরকে ঘিরে সমৃদ্ধ হচ্ছে বরুড়ার অর্থনীতি সুরাইয়া জামান নিতু মৎস্য উৎপাদনে অপার সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হচ্ছে কুমিল্লার বরুড়া উপজেলায়। বড় কোনো নদী না থাকলেও বিস্তীর্ণ খাল, হাজারো দীঘি-পুকুর ও বাণিজ্যিক মৎস্য খামারকে ঘিরে গড়ে উঠেছে সমৃদ্ধ মৎস্য অর্থনীতি। আধুনিক প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মাছ চাষের ফলে একদিকে যেমন বাড়ছে উৎপাদন, তেমনি কর্মসংস্থান ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও যুক্ত হচ্ছে নতুন গতি।
জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উদ্যাপন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুরাইয়া জামান নিতু জানান, চলতি বছরের ১৬ আগস্ট বরুড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদ্যাপন করা হয়েছে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬। “রূপালি মাছে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে মৎস্য খাতের উন্নয়ন, উৎপাদন বৃদ্ধি ও চাষিদের উৎসাহিত করতে নেওয়া হয় বিভিন্ন ইতিবাচক উদ্যোগ। কর্মসূচির অংশ হিসেবে বরুড়া উপজেলা পরিষদের পুকুরে আনুষ্ঠানিকভাবে অবমুক্ত করা হয় বিভিন্ন প্রজাতির মৎস্যপোনা। পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে মৎস্য চাষে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সফল খামারি ও চাষিদের উৎসাহিত করতে দেওয়া হয় পুরস্কার। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুরাইয়া জামান নিতুর উপস্থাপনায় অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় আধুনিক মৎস্য চাষ, উৎপাদন বৃদ্ধি, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ এবং চাষিদের করণীয় বিষয়ে দেওয়া হয় আলোচনা ও দিকনির্দেশনা। বিশাল জলসম্পদ, বাড়ছে বাণিজ্যিক চাষ মৎস্য চাষের জন্য বরুড়ার রয়েছে উল্লেখযোগ্য প্রাকৃতিক ও অবকাঠামোগত সম্ভাবনা।
স্থানীয় তথ্য অনুযায়ী, উপজেলায় প্রায় ৭০০ হেক্টরজুড়ে বিস্তৃত রয়েছে কার্জন খাল, রয়েছে ৭ হাজারের বেশি দীঘি-পুকুর এবং অসংখ্য বাণিজ্যিক মৎস্য খামার। এসব জলাশয় ও খামারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে মাছ চাষ করে আসছেন স্থানীয় উদ্যোক্তা ও চাষিরা। বর্তমানে অনেক চাষি আধুনিক সেমি-ইনটেনসিভ পদ্ধতিতে থাই পাঙাশ, রুই, কাতলা ও মৃগেলসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করছেন। এতে স্থানীয় মানুষের মাছের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি উৎপাদিত অতিরিক্ত মাছ সরবরাহ করা হচ্ছে পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলায়। বরুড়ার থাই কৈ মাছও দেশের বাজারে পেয়েছে ব্যাপক পরিচিতি। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সুস্বাদু এই থাই কৈ দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশের বাজারেও রপ্তানি হওয়ার সুনাম রয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। উৎপাদন খরচ কমাতে নীতিগত সহায়তার প্রত্যাশা মৎস্য খাতকে আরও এগিয়ে নিতে জাতীয় পর্যায়েও নেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন উদ্যোগ। এর মধ্যে রয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে মাছ ও পশুখাদ্য উৎপাদনসহ সংশ্লিষ্ট খাতে বিদ্যুৎ ভর্তুকির উদ্যোগ। প্রস্তাবিত ১০০ কোটি টাকার এই বিদ্যুৎ ভর্তুকি মৎস্য ও সংশ্লিষ্ট খাতের উদ্যোক্তাদের উৎপাদন ব্যয় কমাতে সহায়ক হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এর সুফল বরুড়ার মৎস্যচাষিরাও পেতে পারেন বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের। এ ছাড়া উৎপাদিত মাছ ও অন্যান্য মৎস্যপণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে স্থানীয় পর্যায়ে প্রসেসিং ও প্যাকেজিং সেন্টার স্থাপনেরও পরিকল্পনা রয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে মাছ সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, বাজারজাতকরণ এবং মূল্য সংযোজনের সুযোগ বাড়বে। একই সঙ্গে চাষিরা উৎপাদিত মাছের আরও ভালো দাম পাওয়ার সুযোগ পাবেন। চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নজরদারি ও সচেতনতা বরুড়ার মৎস্য খাতের সম্ভাবনার পাশাপাশি রয়েছে কিছু চ্যালেঞ্জও। দেশীয় প্রজাতির মাছ সংরক্ষণ, অবৈধ ও নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার বন্ধ, জলাশয়ের পরিবেশ রক্ষা এবং মাছের রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত নজরদারি ও জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। উপজেলা মৎস্য কার্যালয়ের পক্ষ থেকে অবৈধ জাল ও নিষিদ্ধ পদ্ধতিতে মাছ শিকার বন্ধে অভিযান পরিচালনা, দেশীয় প্রজাতির মাছ সংরক্ষণ এবং চাষিদের আধুনিক পদ্ধতি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ওপর দেওয়া হচ্ছে বিশেষ গুরুত্ব। সুরাইয়া জামান নিতু বলেন, বরুড়ার মৎস্য খাতকে আরও সমৃদ্ধ করতে চাষিদের আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত করা, উৎপাদন বাড়ানো এবং বাজার ব্যবস্থাপনা উন্নত করা প্রয়োজন।
পাশাপাশি তরুণদের মৎস্য চাষে সম্পৃক্ত করা গেলে এই খাতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে বলে জানান তিনি। তাঁর মতে, পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, সরকারি সহায়তা এবং চাষিদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলে বরুড়ার মৎস্য খাত শুধু স্থানীয় চাহিদা পূরণেই নয়, জাতীয় অর্থনীতিতেও আরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে। বিশেষ সাক্ষাৎকারে উঠে এল সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জের পূর্ণাঙ্গ চিত্র বিশেষ সাক্ষাৎকারে বরুড়ার মৎস্য খাতের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুরাইয়া জামান নিতু। ৪১তম বিসিএসের এই কর্মকর্তা মৎস্যবিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী। তাঁর সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে বরুড়ায় মাছ উৎপাদনের বর্তমান চিত্র, চাষিদের সমস্যা ও সম্ভাবনা, অবৈধ জাল প্রতিরোধ, দেশীয় মাছ সংরক্ষণ, সরকারি উদ্যোগ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার নানা দিক। সব মিলিয়ে খাল, পুকুর, দীঘি ও বাণিজ্যিক খামারনির্ভর বরুড়ার মৎস্য খাত এখন সম্ভাবনার এক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। যথাযথ পরিকল্পনা ও সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগে এই খাত আরও বিস্তৃত হলে বরুড়ার অর্থনীতিতে যেমন আসবে নতুন গতি, তেমনি মাছ উৎপাদনে দেশের স্বনির্ভরতার লক্ষ্যও হবে আরও শক্তিশালী। রাখতে সক্ষম হবে।
বিশেষ সাক্ষাৎকারে উঠে এল সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জের পূর্ণাঙ্গ চিত্র বিশেষ সাক্ষাৎকারে বরুড়ার মৎস্য খাতের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুরাইয়া জামান নিতু। ৪১তম বিসিএসের এই কর্মকর্তা মৎস্যবিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী। তাঁর সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে বরুড়ায় মাছ উৎপাদনের বর্তমান চিত্র, চাষিদের সমস্যা ও সম্ভাবনা, অবৈধ জাল প্রতিরোধ, দেশীয় মাছ সংরক্ষণ, সরকারি উদ্যোগ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার নানা দিক। সব মিলিয়ে খাল, পুকুর, দীঘি ও বাণিজ্যিক খামারনির্ভর বরুড়ার মৎস্য খাত এখন সম্ভাবনার এক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। যথাযথ পরিকল্পনা ও সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগে এই খাত আরও বিস্তৃত হলে বরুড়ার অর্থনীতিতে যেমন আসবে নতুন গতি, তেমনি মাছ উৎপাদনে দেশের স্বনির্ভরতার লক্ষ্যও হবে আরও শক্তিশালী।