নরসিংদী আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে চলছে ঘুষ বানিজ্য ও অনিয়ম

নরসিংদী প্রতিনিধি:


নরসিংদী আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে দীর্ঘদিন ধরে ঘুষ বানিজ্য ও নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, অফিসের সহকারী পরিচালক মোঃ রাশেল আহমেদ শাহেন এবং উপ-সহকারী পরিচালক মোঃ শাহাদাত হোসেনসহ বেশ কিছু কর্মচারী বিভিন্ন অনিয়মমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত।

স্থানীয়রা জানায়, সাধারণ নাগরিকরা পাসপোর্ট বা অন্যান্য সেবার জন্য আসলেও অফিসের নির্দিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারীর দোষের কারণে তারা প্রায়ই অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করতে বাধ্য হচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে যে, এই কর্মকর্তারা নিয়মিত ঘুষের মাধ্যমে সরকারি নথি ও সেবা দ্রুততম সময়ে দেওয়ার প্রলোভন দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা নেন।

অভিযোগকারীরা আরও জানান, অফিসের অভ্যন্তরে যথাযথ নিয়ন্ত্রণ না থাকায় অনেক সময় অনিয়ম, বিলম্ব এবং দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হয়। এমন পরিস্থিতি সাধারণ মানুষকে ভোগান্তির মধ্যে ফেলে, আর অনেকেই হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

স্থানীয় এক নাগরিক বলেন, “আমি পাসপোর্টের জন্য কয়েকবার আবেদন করেছি। কিন্তু অফিসের কর্মচারীরা টাকা ছাড়া কোনো কাজই এগোতে দেয় না। এটা সত্যিই ভয়াবহ এবং সরকারি সেবা ব্যাহত হচ্ছে।”

অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের খবর পাওয়ার পর অনেক নাগরিক কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগও করেছেন। তারা দাবি করছেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক, যাতে ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষ নিরাপদ ও সুষ্ঠু সেবা পেতে পারে।

এ বিষয়ে নরসিংদী আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তা মোঃ রাশেল আহমেদ শাহেন বা মোঃ শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তারা সরাসরি মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে সরকারি সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

নাগরিকদের দাবি, সরকারি অফিসে যেসব কর্মকর্তা নিজের দায়িত্বের প্রতি অবহেলা বা দুর্নীতি চালাচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা না নিলে সাধারণ মানুষের আস্থা হ্রাস পাবে এবং সরকারি সেবা আরও দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে যাবে।

নরসিংদী আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে চলমান এই অনিয়মের ঘটনা জনগণের কাছে সতর্কবার্তা হিসেবে প্রতীয়মান হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, কত দ্রুত কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগগুলো তদন্ত করে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *