মোঃ আনজার শাহ
কুমিল্লার বরুড়ায় মাগরিবের নামাজ আদায়ের পর নিখোঁজ হওয়ার এক রাত পর মোবারক হোসেন নামে এক দর্জির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে উপজেলার শাকপুর ইউনিয়নের চৌওরী গ্রামের চৌওরী কমিউনিটি ক্লিনিকের পেছনের একটি বাঁশঝাড় থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে পড়ে ছিল মরদেহটি। তাঁর মৃত্যুর কারণ নিয়ে এলাকায় রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
বরুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী নাজমুল হক জানান, ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশের পাশাপাশি অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তদন্ত করছে।
নিহত মোবারক হোসেন চৌওরী গ্রামের মো. জালাল উদ্দীনের ছেলে। প্রায় ১৫ বছর ধরে বরুড়া বাজারে দর্জির কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তাঁর দুই ছেলে রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) প্রতিদিনের মতো বরুড়া বাজারে দর্জির কাজ শেষে মাগরিবের নামাজ আদায় করেন মোবারক। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। রাতভর পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা খোঁজ করেও তাঁর সন্ধান পাননি।
পরদিন শনিবার সকালে চৌওরী কমিউনিটি ক্লিনিকের পেছনের বাঁশঝাড়ে তাঁর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। তাঁরা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম শুরু করে।
মাগরিবের নামাজের পর থেকে মরদেহ উদ্ধারের আগ পর্যন্ত মোবারক কোথায় ছিলেন, কারও সঙ্গে তাঁর দেখা হয়েছিল কি না কিংবা কী পরিস্থিতিতে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি।
ওসি কাজী নাজমুল হক জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। ঘটনার রহস্য উন্মোচনে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, মৃত্যু কীভাবে হয়েছে, তা ময়নাতদন্ত ও তদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই স্পষ্ট হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, মোবারক হোসেন এলাকায় ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও পরিচিতজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নামাজের পর নিখোঁজ হওয়া এবং পরদিন বাড়ির কাছের বাঁশঝাড় থেকে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। কী কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে এবং নিখোঁজ হওয়ার সঙ্গে মৃত্যুর কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা জানতে তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছেন এলাকাবাসী।