মোঃ আনজার শাহ
বরুড়া জনকল্যাণ সমিতি, ঢাকার বর্তমান কমিটি গত পাঁচ মাসে চারটি মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজন করেছে। এর মধ্য দিয়ে অনেক মানুষের পাশে দাঁড়াতে পেরেছে সংগঠনটি। বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা শিবিরে এ কথা জানিয়েছেন সমিতির সভাপতি ও অতিরিক্ত সচিব শাহ আলম। তিনি বলেন, চক্ষু শিবিরকে সমিতি তাদের নিয়মিত ও গুরুত্বপূর্ণ সেবা কার্যক্রম হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
শাহ আলম বলেন, “বরাবরের মতো সমিতি অতীতেও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। আগের কমিটি থেকে শুরু হওয়া চক্ষু ও চিকিৎসা শিবির, শিক্ষার্থীদের মেধাবৃত্তি, আর্থিক সহায়তা, বন্যায় ত্রাণ এবং শীতে শীতবস্ত্র বিতরণসহ নানা কর্মসূচি আমরা চালিয়ে যাচ্ছি। আগের কমিটির মতোই বর্তমান কমিটিও এ ধারা অব্যাহত রেখেছে। মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এর চেয়ে উত্তম পরিকল্পনা আমাদের এই মুহূর্তে জানা নেই।”
তিনি জানান, সদস্যদের মধ্যে সম্পর্ক ও পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় করতে সমিতি পিকনিক ও মেজবানের আয়োজন করে থাকে, তবে মানবিক কার্যক্রমকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সমিতির সভাপতি জানান, ঢাকায় বসবাসরত সদস্যদের মধ্যে যাঁরা আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে চিকিৎসা নিতে পারেন না, তাঁদের অত্যন্ত গোপনে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। এ জন্য বরুড়ার ধনাঢ্য ও বড় মনের মানুষদের কাছ থেকে অনুদান সংগ্রহ করে একটি তহবিল গঠন করা হয়েছে। এ কর্মসূচিকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যেতে চান বলে জানান তিনি।
শাহ আলম বলেন, সমিতির কর্মক্ষেত্র ঢাকা হলেও শেকড় বরুড়ায়। তাই সব ভালো কাজের কর্মসূচি বরুড়ায় নিয়ে আসতে চান তাঁরা। “সে কারণেই আমরা বারবার বরুড়ায় ফিরে আসি। গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাজ আমরা ঢাকায় পরিচালনা করি না,” বলেন তিনি।
স্থানীয় রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বরুড়ার বর্তমান সংসদ সদস্য, যিনি মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, তাঁর পূর্ণ সমর্থন এবং সব রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা সমিতি পেয়ে আসছে। তাঁর ভাষ্য, “প্রায় ৩৫ বছর ধরে সংগঠনটি অরাজনৈতিকভাবে কাজ করছে। আমাদের মধ্যে কোনো রাজনৈতিক বিভাজন নেই। বর্তমান কমিটিতেও সব দলের মানুষ আছেন। এটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, মানবিক কর্মসূচি। সমাজের সবাই কোনো না কোনো দল করেন, আমরা সবাইকে নিয়েই কাজ করতে চাই।”
সমিতির ভবিষ্যৎ উদ্যোগ নিয়ে শাহ আলম জানান, বরুড়ায় ছোট আকারে ক্লিনিক বা থেরাপি সেন্টার স্থাপনের সম্ভাবনা নিয়ে ভাবা হচ্ছে। এ ছাড়া মাদক নির্মূলে করণীয় নিয়ে সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করে কর্মসূচি নেওয়ার বিষয়ে কমিটি ও সমিতি পর্যায়ে আলোচনা চলছে। অদূর ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মসূচি নিয়ে বরুড়ায় আসার আশা প্রকাশ করেন তিনি।
শেষে শাহ আলম বলেন, “আমরা বরুড়ার ভালো কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকতে চাই। এলাকার মানুষের কাছে আমাদের কোনো প্রত্যাশা নেই, আমরা শুধু কাজ করতে চাই। আমরা তাঁদের ভালোবাসায় সিক্ত, আর সেই ভালোবাসা ও বিশ্বাসেই থাকতে চাই। এটুকুই আমাদের চাওয়া।”