মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভীর বিরুদ্ধে দায়ের করা পাঁচ মামলায় গ্রেপ্তারের (শ্যোন অ্যারেস্ট) আবেদন আদালত মঞ্জুর করেছেন। এর মধ্যে ফতুল্লা থানায় চারটি হত্যা মামলা এবং সদর থানায় পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত।
মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ আদালতে শ্যোন অ্যারেস্টের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। দু’টি আদালতই আবেদন মঞ্জুর করে। নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আব্দুল কাইয়ুম খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। কোর্ট পুলিশ জানায়, অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সেলিনা খাতুনের আদালতে সদর থানার মামলাটির শুনানি হয় এবং অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফতুল্লা মাইমুনা আকতার মনির আদালতে ফতুল্লা থানার চারটি হত্যা মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
আইভীর পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন বলেন, “যে পাঁচ মামলায় শ্যোন অ্যারেস্টের আবেদন মঞ্জুর হয়েছে, তার কোনো মামলায় সাবেক মেয়র আইভীর নাম ছিল না। এই মামলাগুলো শুধুমাত্র তার জামিন বিলম্ব করার জন্য নতুন করে সাজানো হয়েছে। আমরা নিম্ন আদালতের শ্যোন অ্যারেস্ট আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করব।”
নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশ আরও জানায়, ফতুল্লা থানা ও সদর থানা থেকে যে পাঁচটি মামলায় শ্যোন অ্যারেস্টের আবেদন করা হয়েছিল, তা আজ আদালতে মঞ্জুর হয়েছে।
এর আগে গত ৯ নভেম্বর হাইকোর্ট নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভীকে পাঁচটি মামলায় জামিন দিয়েছিলেন। তবে পরের দিন, ১০ নভেম্বর, সদর থানার পুলিশ এবং ফতুল্লা থানার পুলিশ শ্যোন অ্যারেস্টের আবেদন করেন। উল্লেখ্য, গত ৯ মে ডা. আইভীকে তার নিজ বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। জামিনের বিষয়টি পরে স্থগিত করা হয়। বর্তমানে আইভী কাশিমপুর কারাগারে রয়েছেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আদালতের শ্যোন অ্যারেস্ট মঞ্জুর করা এবং আইভীর জামিন স্থগিত হওয়া স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করতে পারে। পাশাপাশি, আইভীর ক্যান্সারসহ স্বাস্থ্যগত পরিস্থিতি এবং কারাগারে অবস্থান বিষয়েও বিভিন্ন মহল উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা বলছেন, আইভীর এই মামলাগুলো এবং শ্যোন অ্যারেস্ট আবেদন দেশের রাজনৈতিক অবস্থা এবং নির্বাচন-পরবর্তী পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলেছে।