মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
নারায়ণগঞ্জে “ভাইজান” খ্যাত আজমীর ওসমানের অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী আশরাফ উদ্দিন ভূঁইয়াকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, আশরাফের অব্যাহত কর্মকাণ্ড এলাকায় শান্তি ও শৃঙ্খলার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, আজমীর ওসমানের রেখে যাওয়া অস্ত্রভাণ্ডারের একটি বড় অংশ বর্তমানে আশরাফ উদ্দিনের কাছে গচ্ছিত রয়েছে। দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠতার প্রমাণ হিসেবে আজমীর ওসমানের শ্বশুরবাড়ি নরসিংদীতে একটি ট্রাক ফুল দিয়ে সাজানো হয় এবং বিপুল পরিমাণ মিষ্টি ও দই পাঠানো হয়। সূত্র জানায়, গাড়ি সাজাতে খরচ হয় প্রায় ৫০ হাজার টাকা এবং মিষ্টি ও দইয়ের জন্য ব্যয় হয় প্রায় পাঁচ লাখ টাকা।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, আশরাফ উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে বিসিক এলাকায় ঝুট ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং সন্ত্রাসী কাইল্যা রকমতের ক্যাশিয়ার হিসাবও দেখভাল করতেন। একসময় টিকিটের ব্ল্যাকার হিসেবে পরিচিত আশরাফ বর্তমানে শত কোটি টাকার মালিক বলে দাবি করেন স্থানীয়রা। এছাড়া তিনি এক সময় থানা পুলিশের জন্য নিয়মিত মাসোহারা প্রদান করতেন বলেও অভিযোগ ওঠে।
বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের পর, হাসিনা সরকারের পতনের সময় আশরাফ উদ্দিন আত্মগোপনে চলে যান। পরে স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতাকে “ম্যানেজ” করে তিনি আবার এলাকায় সক্রিয় হয়ে ওঠেন। সূত্রের দাবি, সময়ের সঙ্গে নিজেকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করতে তিনি বিএনপির নেতাদের সঙ্গে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশ করে আত্মরক্ষার চেষ্টা করছেন।
তথ্য অনুসারে, ৩ ও ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের ওপর সংঘটিত হামলার সময় আশরাফ উদ্দিন তার বিশাল ক্যাডার বাহিনী নিয়ে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সরাসরি হামলায় অংশ নেন। স্থানীয় এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, তিনি নিজেকে সুফিবাদী মানুষ হিসেবে পরিচয় দেওয়ার চেষ্টা করলেও বাস্তবে তিনি আজমীর ওসমানের অন্যতম দোসর হিসেবে পরিচিত।
এ কারণে স্থানীয়রা জোর দাবি জানিয়েছেন, আশরাফ উদ্দিন ভূঁইয়াকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। তারা মনে করছেন, না হলে আশরাফের অব্যাহত কর্মকাণ্ড এলাকার শান্তি ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যদি যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ না করে, তাহলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ বোধ করতে পারবে না।