মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
নারায়ণগঞ্জে জেলা পুলিশের সাতটি থানা ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পৃথক বিশেষ অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের পাঁচ সদস্যসহ মোট ৮০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় ৩৩৬ পিস ইয়াবা, ৬ কেজি ১৬০ গ্রাম গাঁজা ও ২ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২৬ অক্টোবর) জেলাজুড়ে পরিচালিত এসব অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী, মাদকসেবী, ছিনতাইকারী, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি এবং বিভিন্ন মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ১২ জন মাদক ব্যবসায়ী, ৪২ জন মাদকসেবী, নয়জন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি, পাঁচজন ছিনতাইকারী, নিয়মিত মামলার দুই আসামি, অন্যান্য ধারার পাঁচজন এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের পাঁচ সদস্য রয়েছেন।
থানাভিত্তিক অভিযানের বিবরণে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ ২ কেজি গাঁজা ও ৩৫ পিস ইয়াবাসহ মোট ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁদের মধ্যে চারজন মাদক ব্যবসায়ী, তিনজন মাদকসেবী, একজন ছিনতাইকারী, দুজন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি, অন্যান্য ধারার একজন এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের দুজন সদস্য রয়েছেন।
ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ ৪ কেজি গাঁজা, ১৬০ পিস ইয়াবা ও ২ গ্রাম হেরোইন উদ্ধারসহ মোট ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁদের মধ্যে চারজন মাদক ব্যবসায়ী, চারজন মাদকসেবী, একজন ছিনতাইকারী, দুজন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি, অন্যান্য ধারার একজন এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের দুজন সদস্য রয়েছেন।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ ৪০ পিস ইয়াবাসহ মোট নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁদের মধ্যে একজন মাদক ব্যবসায়ী, দুজন মাদকসেবী, চারজন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি, একজন ছিনতাইকারী ও নিয়মিত মামলার একজন আসামি রয়েছেন।
বন্দর থানা পুলিশ নিষিদ্ধ সংগঠনের একজন সদস্য ও অন্যান্য ধারার একজনসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
সোনারগাঁ থানা পুলিশ ৫১ পিস ইয়াবাসহ মোট ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁদের মধ্যে একজন মাদক ব্যবসায়ী, ১৮ জন মাদকসেবী, দুজন ছিনতাইকারী, একজন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ও নিয়মিত মামলার একজন আসামি রয়েছেন।
রূপগঞ্জ থানা পুলিশ ১৬০ গ্রাম গাঁজা ও ৫০ পিস ইয়াবাসহ মোট ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁদের মধ্যে দুজন মাদক ব্যবসায়ী, ১৪ জন মাদকসেবী এবং অন্যান্য ধারার একজন রয়েছেন।
এ ছাড়া আড়াইহাজার থানা পুলিশের অভিযানে একজন মাদকসেবীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। অপরাধ দমন ও জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।