মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) সীমানা বর্ধিতকরণের বিষয়ে জনমত যাচাইয়ের লক্ষ্যে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকাল সাড়ে ১১টায় নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব নিলুফা ইয়াসমিন, মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, সাবেক সদর উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস, নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জীবন, নারায়ণগঞ্জ জার্নালিস্ট ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক এস এম জহিরুল ইসলাম বিদ্যুৎ, ইঞ্জিনিয়ার শহিদুল ইসলাম খানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
গণশুনানিতে বক্তারা প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত কয়েকটি এলাকা নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত করার প্রস্তাব দেন। এর মধ্যে রয়েছে ফতুল্লা ইউনিয়নের ১, ২, ৩ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ড, খানপুরের কিছু অংশ, এনায়েতনগর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড ছাড়া অন্যান্য অংশ এবং কাশীপুর ইউনিয়নের কিছু অংশ।
তবে বক্তারা বলেন, কোনো ইউনিয়নের আংশিক এলাকা সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত করা হলে প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই এনায়েতনগর ইউনিয়নকে অন্তর্ভুক্ত করতে হলে পুরো ইউনিয়নকেই সিটি করপোরেশনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা। একই সঙ্গে গোগনগর ইউনিয়নকেও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত করার জোর দাবি জানানো হয়।
গণশুনানিতে ফতুল্লা থানার চারটি ইউনিয়ন ও গোগনগর ইউনিয়নসহ মোট পাঁচটি ইউনিয়নকে সিটি করপোরেশনের আওতায় আনার প্রস্তাব ওঠে। পরে বক্তারা আরও এক ধাপ এগিয়ে পুরো ফতুল্লা থানাকেই নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত করার আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, নারায়ণগঞ্জে দ্রুত নগরায়ণ ঘটছে। নগরবাসীর নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে সিটি করপোরেশনের সীমানা বর্ধিতকরণ এখন সময়ের দাবি। জনগণের মতামত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই তাদের মতামত জানতেই এ গণশুনানির আয়োজন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আজকের গণশুনানিতে উঠে আসা সব মতামত ও প্রস্তাব সরকারের কাছে সুপারিশ আকারে পাঠানো হবে। জনগণের প্রত্যাশা এবং পরিকল্পিত নগর উন্নয়নের বিষয়গুলো সমন্বয় করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সভায় অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সীমানা বর্ধিত হলে জলাবদ্ধতা নিরসন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সড়ক উন্নয়ন, ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ নাগরিক সেবার মান আরও বাড়বে।
গণশুনানির কার্যবিবরণী স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানোর পর সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সীমানা বর্ধিতকরণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে বলে জানা গেছে।