স্টাফ রিপোর্টার:
দেশব্যাপী হামের সংক্রমণ মোকাবিলার পাশাপাশি সাধারণ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক সংকটের মধ্যেও নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। সীমিত জনবল নিয়েও রোগীদের চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখতে দিনরাত পরিশ্রম করছেন চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসছেন। রোগীর তুলনায় চিকিৎসকের সংখ্যা কম হলেও সেবা কার্যক্রম সচল রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হামে আক্রান্ত শিশু থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী রোগীদের চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণে চিকিৎসকেরা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছেন।
ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. শৈলেন্দ্র বৈষ্ণব সাংবাদিকদের বলেন, “আমাদের উপজেলায় যে হারে রোগী আসছেন, সেই তুলনায় চিকিৎসকের সংখ্যা পর্যাপ্ত নয়। তারপরও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নুসরাত আফরিনের নেতৃত্বে আমরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য একটাই—প্রত্যেক রোগী যেন যথাসম্ভব সর্বোত্তম চিকিৎসাসেবা পান।”
তিনি আরও জানান, হামের সংক্রমণ প্রতিরোধে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে মাইকিং, সচেতনতামূলক প্রচারণা, ক্যাম্পেইন এবং টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা মাঠপর্যায়ে নিয়মিত কাজ করছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নুসরাত আফরিন বলেন, “আমার কাছে কোনো রোগই ছোট বা বড় নয়। প্রত্যেক রোগীই সমান গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী যেসব ওষুধ পাওয়া যায়, সেগুলো সম্পূর্ণ বিনামূল্যে রোগীদের দেওয়া হচ্ছে। আমি সব সময় চিকিৎসকদের নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত থেকে আন্তরিকতার সঙ্গে রোগীদের সেবা দেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে থাকি।”
হাম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। শিশুদের পাশাপাশি বিভিন্ন বয়সী রোগীও আক্রান্ত হচ্ছেন। আমরা সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করে রোগীদের দ্রুত সুস্থ করে তুলতে কাজ করছি। জনগণেরও উচিত নির্ধারিত সময়ে টিকা গ্রহণ করা এবং রোগের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যোগাযোগ করা।”
হাসপাতালের চিকিৎসকেরাও জানান, সীমিত জনবল থাকা সত্ত্বেও রোগীদের চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা না করে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছেন তারা। দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতিতে চিকিৎসকের সংকট থাকলেও ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা প্রতিটি রোগীকে যথাসম্ভব মানসম্মত চিকিৎসাসেবা দেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয়সংখ্যক চিকিৎসক ও জনবল নিয়োগ করা হলে ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবার মান আরও বৃদ্ধি পাবে এবং সাধারণ মানুষ আরও উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পাবেন।