নিজস্ব প্রতিবেদক
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক নারীর সঙ্গে অশ্লীল ভিডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) পরিচালক (বন্দর ও পরিবহন বিভাগ) এ কে এম আরিফ উদ্দিন (আরিফ হাসনাত)-কে সাময়িক বরখাস্ত করেছে কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিআইডব্লিউটিএ জারি করা এক দপ্তর আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে আলোচিত এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক নারীর সঙ্গে আপত্তিকর ভিডিও ক্লিপ প্রকাশের পর ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে শেষ পর্যন্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয় বিআইডব্লিউটিএ।
দপ্তর আদেশে বলা হয়েছে, এ কে এম আরিফ উদ্দিনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারী কেলেঙ্কারি, দুর্নীতি এবং অসদাচরণের অভিযোগসংবলিত ভিডিও ক্লিপ প্রকাশিত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। এ কারণে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ কর্মচারী চাকরি প্রবিধানমালা, ১৯৯০-এর বিধি ৩৫ (খ) ও (ঙ) লঙ্ঘনের অভিযোগে বিধি ৪১(১) অনুযায়ী তাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি প্রচলিত বিধি অনুযায়ী খোরাকি ভাতা পাবেন। তবে ওই ভাতা পেতে হলে তাকে নিয়মিত বিআইডব্লিউটিএর প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগে হাজিরা দিতে হবে। হাজিরা নিশ্চিত হওয়ার পরই তার খোরাকি ভাতা পরিশোধ করা হবে।
একই আদেশে বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক (প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগ) মো. সাইফুল ইসলামকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে পরিচালক (বন্দর ও পরিবহন বিভাগ)-এর দায়িত্ব পালন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘদিনের অভিযোগ
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, এ কে এম আরিফ উদ্দিনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন ধরনের প্রশাসনিক অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং আর্থিক অসঙ্গতির অভিযোগ ছিল। এসব অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার সঙ্গে এক নারীর আপত্তিকর ভিডিও ক্লিপ ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। ভিডিও প্রকাশের পর বিভিন্ন মহলে সমালোচনার ঝড় ওঠে এবং সরকারি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার এমন কর্মকাণ্ডে প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে মন্তব্য করেন অনেকে।
প্রশাসনিক বার্তা
সংশ্লিষ্টদের মতে, একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ ও ভিডিও প্রকাশের ঘটনা সরকারি প্রতিষ্ঠানের সুনাম ও জনআস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এ কারণে কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তবে সাময়িক বরখাস্ত কোনো চূড়ান্ত শাস্তি নয়; অভিযোগের বিষয়ে বিভাগীয় তদন্ত শেষে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে, বিআইডব্লিউটিএর সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটন করা হবে এবং তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে সরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে এমন অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।