নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করতে ১১ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসাসামগ্রী বিতরণ

মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:

জলবায়ু সহনশীল স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে চিকিৎসাসামগ্রী ও ওষুধ বিতরণ করা হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ‘ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট ক্যাম্পাস ইনিশিয়েটিভ’-এর আওতায় এ কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, নিরাপদ মাতৃত্ব ও প্রসূতিসেবার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বাড়ানো ছিল এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির। সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিন। এ সময় জেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, উপজেলা প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রগুলো প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান। বিশেষ করে গর্ভবতী মা, নবজাতক ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এসব কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা গেলে স্থানীয় পর্যায়েই অনেক স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া সম্ভব হবে। এতে সাধারণ মানুষের যাতায়াত ব্যয় ও ভোগান্তি কমার পাশাপাশি মা ও শিশুর স্বাস্থ্যঝুঁকি হ্রাসে সহায়তা মিলবে।

জলবায়ু পরিবর্তনজনিত তাপপ্রবাহ, অতিবৃষ্টি, বন্যা ও জলাবদ্ধতার মতো স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোও এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর ও সক্ষম করে গড়ে তুলতে হবে। বিতরণ করা চিকিৎসাসামগ্রী ও ওষুধের যথাযথ সংরক্ষণ ও ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রকৃত সেবাগ্রহীতারা যেন এর সুফল পান, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উপজেলা প্রশাসন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয়ে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, নিরাপদ মাতৃত্ব এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় এ কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখবে।

সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, উপজেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগের ফলে ১১টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে স্বাস্থ্যসেবার পরিবেশ ও সক্ষমতা আরও উন্নত হবে। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়বে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *