আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ন্যাটো সদস্যভুক্ত কোনো দেশে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে রাশিয়া ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র কিংবা সীমিত অনুপ্রবেশের মাধ্যমে উসকানিমূলক পদক্ষেপ নিতে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ইউরোপের কয়েকজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা। তবে একই সময়ে বাল্টিক অঞ্চলের কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তারা রাশিয়ার পক্ষ থেকে আসন্ন কোনো হামলার স্পষ্ট লক্ষণ দেখছেন না।
পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী দোনাল্দ তুস্ক পার্লামেন্টে বলেছেন, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী রাশিয়া আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ন্যাটোভুক্ত কোনো এলাকায় ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে জোটটির আর্টিকেল ৫-এর প্রতিশ্রুতি পরীক্ষা করতে পারে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইউরোপে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে চেক নিরাপত্তা সংস্থা বিআইএসের প্রধান মিহাল কোউদেলকা বলেন, সীমান্তবর্তী কোনো ন্যাটো এলাকায় সীমিত অনুপ্রবেশ, উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড কিংবা ব্যাপক প্রভাব বিস্তারকারী প্রচারণার মতো পদক্ষেপের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তার মূল্যায়ন অনুযায়ী, এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে তা বছর নয়, কয়েক মাসের মধ্যেও ঘটতে পারে।
তবে এই মূল্যায়নের সঙ্গে সব ইউরোপীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তা একমত নন। লাটভিয়ার নিরাপত্তা সংস্থার প্রধান নরমুন্দস মেঝভিয়েতস বলেন, তারা আসন্ন কোনো হামলার লক্ষণ দেখছেন না। এস্তোনিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাসচিব ইয়োনাতান ভেসেভিওভও জনসাধারণকে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে ক্রেমলিনও ন্যাটোভুক্ত দেশে হামলার সম্ভাবনা নিয়ে ছড়ানো গুঞ্জন নাকচ করেছে। রুশ প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভের ভাষ্য, এসব দাবির সঙ্গে বাস্তবতার সম্পর্ক নেই।
ইউরোপীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের উদ্বেগের আরেকটি বড় কারণ রাশিয়ার কথিত নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড। তাদের মতে, রেলপথ, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, ইউক্রেনকে সহায়তাকারী সরবরাহব্যবস্থা ও প্রতিরক্ষা শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ইউরোপে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং ইউক্রেনের প্রতি পশ্চিমা সমর্থন দুর্বল করার চেষ্টা হতে পারে বলে কর্মকর্তারা মনে করছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনের সীমান্তবর্তী এলাকায় রুশ হামলা নিয়ে পোল্যান্ডও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। গত সপ্তাহে ইউক্রেনের পশ্চিমাঞ্চলে রুশ হামলার পর পোল্যান্ড নিজেদের আকাশসীমা ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে সতর্কতা বাড়ায়।
তবে এখন পর্যন্ত ন্যাটো সদস্যদেশে রাশিয়ার সরাসরি আসন্ন হামলা নিশ্চিত হয়েছে—এমন কোনো তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে ইউরোপীয় গোয়েন্দাদের সতর্কবার্তাকে সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে মূল্যায়ন হিসেবে দেখা হচ্ছে, নিশ্চিত হামলার পূর্বাভাস হিসেবে নয়।