পর্যটকদের গাড়ি পার্কিংয়ে নষ্ট হচ্ছে নওগাঁর ঘুকশী বিলের ঐতিহ্যবাহী ফুটবল মাঠ

নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার আমাইড় ইউনিয়নের নান্দাশ গ্রামের ঐতিহাসিক ঘুকশী বিলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন শত শত দর্শনার্থী। পর্যটকদের আগমনে মুখর হয়ে উঠলেও তাদের অবাধ গাড়ি চলাচল ও পার্কিংয়ের কারণে বিলসংলগ্ন ঐতিহ্যবাহী ফুটবল মাঠটি এখন ক্ষতির মুখে পড়েছে। মাঠটি রক্ষায় দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঘুকশী বিলের চারপাশের মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করতে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ এখানে আসেন। কিন্তু দর্শনার্থীদের একটি অংশ নিয়ম-নীতি না মেনে বিলের তীরঘেঁষা ফুটবল মাঠে চার চাকার যানবাহন, তিন চাকার মোটরযান ও মোটরসাইকেল নিয়ে প্রবেশ করছেন। অনেকে মাঠের ভেতরেই গাড়ি পার্ক করছেন।

এতে মাঠের বিভিন্ন স্থানে মাটি দেবে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে খানাখন্দ ও বড় বড় গর্ত। পাশাপাশি নষ্ট হচ্ছে মাঠের ঘাস ও সমতল পরিবেশ। ফলে স্থানীয় শিশু-কিশোর ও যুবকদের খেলাধুলার জন্য ব্যবহৃত মাঠটি ধীরে ধীরে খেলার অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।

স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘মাদক ছেড়ে মাঠে চল’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে যুবসমাজকে খেলাধুলায় সম্পৃক্ত রাখার ক্ষেত্রে মাঠটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। অথচ পর্যটকদের গাড়ি চলাচল ও পার্কিংয়ের কারণে মাঠের যে ক্ষতি হচ্ছে, তা দ্রুত বন্ধ করা না গেলে ভবিষ্যতে খেলাধুলার পরিবেশই নষ্ট হয়ে যাবে। এতে তরুণদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

সচেতন মহলের অভিযোগ, দর্শনার্থীদের অসচেতনতার কারণে ঐতিহ্যবাহী মাঠটি বর্তমানে অনেকটা পার্কিংয়ের জায়গায় পরিণত হয়েছে। এভাবে গাড়ি চলাচল অব্যাহত থাকলে মাঠের স্বাভাবিক পরিবেশ ও সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি এটি খেলাধুলার জন্য পুরোপুরি অনুপযোগী হয়ে পড়তে পারে।

এ অবস্থায় ঐতিহাসিক ঘুকশী বিলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং স্থানীয় তরুণদের খেলাধুলার পরিবেশ রক্ষায় মাঠের চারপাশে ব্যারিকেড নির্মাণ, গাড়ি প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা এবং প্রয়োজনীয় নজরদারি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়দের দাবি, পত্নীতলা থানা ও উপজেলা প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিলে পর্যটকদের অবাধ যানবাহন চলাচল বন্ধ করার পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী ফুটবল মাঠটিও রক্ষা করা সম্ভব হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *