পুলিশ নিয়োগে দালাল চক্রকে সতর্ক করলেন এসপি মিজানুর রহমান

মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:

পুলিশে চাকরি পেতে কোনো টাকা লাগে না—এটি সেবা, ব্যবসা নয়। দালালের প্রলোভনে পড়ে নিজের স্বপ্ন ও অর্থ দুটোই হারাবেন না—এমন আহ্বান জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী।

বাংলাদেশ পুলিশে ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর, এএসআই (নিরস্ত্র) পদে নিয়োগ পরীক্ষা সামনে রেখে প্রার্থী ও অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি এ বার্তা দেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, এবারের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে মেধা, স্বচ্ছতা, যোগ্যতা ও শৃঙ্খলার ভিত্তিতে সম্পন্ন হবে।

জেলা পুলিশের মূলমন্ত্র “শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা, প্রগতি” উল্লেখ করে পুলিশ সুপার বলেন, কোনো প্রার্থী দালাল বা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়ার চেষ্টা করলে তার প্রার্থিতা তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল করা হবে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি আরও জানান, এপ্রিল ২০২৬ নিয়োগের শারীরিক মাপ ও শারীরিক সক্ষমতা যাচাই পরীক্ষা আগামী ২৪, ২৫ ও ২৬ জুন নারায়ণগঞ্জ পুলিশ লাইন্স মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিদিন সকাল ৮টার মধ্যে প্রার্থীদের উপস্থিত থাকতে হবে।

১ম দিন (২৪ জুন): শারীরিক মাপ ও কাগজপত্র যাচাই। পুরুষ প্রার্থীদের উচ্চতা, ওজন ও বুকের মাপ এবং নারী প্রার্থীদের উচ্চতা ও ওজন নেওয়া হবে।

২য় দিন (২৫ জুন): শারীরিক সক্ষমতা পরীক্ষা। দৌড়, লং জাম্প ও হাই জাম্পের মাধ্যমে প্রার্থীদের যোগ্যতা যাচাই করা হবে।

৩য় দিন (২৬ জুন): পুশ-আপ, সিট-আপ, ড্র্যাগিং ও রোপ ক্লাইম্বিং পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। নির্ধারিত সময় ও মানদণ্ডে উত্তীর্ণ প্রার্থীরাই পরবর্তী ধাপে অংশ নিতে পারবেন।

জেলা পুলিশ সুপার আরও জানান, পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে পুরো মাঠে সিসিটিভি ক্যামেরা, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং ভ্রাম্যমাণ টিমের মাধ্যমে কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থা থাকবে।

প্রার্থীদের প্রতি পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, প্রবেশপত্র, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্রসহ প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্রের মূল কপি সঙ্গে আনতে হবে। মেধাবী ও শারীরিকভাবে যোগ্য তরুণ-তরুণীরাই পুলিশ বাহিনীতে আসবেন। স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সমাজে “শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা, প্রগতি”—এই বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *