নাছিমা খাতুন সুলতানা:
নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলাধীন ধলামুলগাঁও ইউনিয়নের দিউপাড়া গ্রামে মোঃ নাজিম উদ্দিনের দাপটে বাড়ির লোকজন ও গ্রামবাসী দীর্ঘদিন ধরে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মৃত মোঃ মারাজ আলীর ছেলে নাজিম উদ্দিন ক্ষমতার অপব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছেন এবং পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে একের পর এক অশান্তি সৃষ্টি করছেন।
সূত্রে জানা যায়, প্রায় আট মাস আগে নাজিম উদ্দিন বসতবাড়ির সামনে বেড়া দিয়ে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেন। এতে এলাকাবাসীর স্বাভাবিক চলাচলে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়। একই সময় মৃত মোঃ বারেক মিয়ার ছেলে মোঃ ফারুক মিয়া ও তার লোকজন এতে বাধা দিলে নাজিম উদ্দিন পারুল আক্তারকে অশালীন ভাষায় গালাগালি ও মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এমনকি প্রায় ১৪ দিন ধরে বাড়ির লোকজন কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকেন এবং রাস্তা বন্ধই থাকে।
পরবর্তীতে গ্রামের মাতব্বর মোঃ বিল্লাল হোসেন, মোঃ বাচ্চু মিয়া, মোঃ আব্দুল রশিদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এগিয়ে এসে বাঁশের বেড়া অপসারণ করেন এবং রাস্তা চলাচলের উপযোগী করে দেন। তবে এ ঘটনার পর থেকেই উভয় পক্ষের মধ্যে পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ আরও প্রকট আকার ধারণ করে।
গ্রামবাসীদের ভাষ্য অনুযায়ী, নাজিম উদ্দিনের পিতা মোঃ মারাজ আলীর কাছ থেকে ১২ শতাংশ জমি ক্রয় করা হলেও পরে ওই জমির পরিমাণ নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, একই জমি একাধিকবার বিক্রির মাধ্যমে মোট ১৬ শতাংশ দেখানো হয়। পরবর্তীতে নাজিম উদ্দিন ও তার ভাই মাফিজ উদ্দিন মিরাজ উদ্দিনের স্ত্রীর কাছ থেকে আরও ১৪ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। এতে প্রায় ৪ শতাংশ পৈত্রিক জমি নিয়ে বিরোধ থেকেই যায়। এই জমি সংক্রান্ত অস্পষ্টতার কারণে প্রায়ই উভয় পক্ষের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকছে।
সর্বশেষ গত ৬ জানুয়ারি ২০২৬ ইং, মঙ্গলবার বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে নাজিম উদ্দিন বাঁশঝাড় কাটতে গেলে প্রতিপক্ষ পারুল আক্তার ও জাহানারা আক্তার এতে বাধা দেন। এ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে আবারও উত্তেজনা ও ঝগড়ার সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে পুরো গ্রামজুড়ে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় ওঠে।
এ ঘটনায় ঢাকা থেকে প্রকাশিত জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীরা সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে গ্রামবাসীরা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। তারা জানান, বারবার গ্রাম্য সালিশ বৈঠক হলেও সময়ের স্বল্পতার কারণে স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। সর্বশেষ সালিশে পরবর্তী সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত যে যেভাবে বসতঘর নির্মাণ করে আছেন, সেভাবেই থাকার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে, এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নাজিম উদ্দিন ও মাফিজ উদ্দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে একতরফা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে প্রতিপক্ষ মোঃ আবু চাঁন মিয়া, মোঃ ফারুক মিয়াসহ অন্যদের হেয় করার চেষ্টা করছেন। এতে পুরো গ্রামে গুজব ও কানাঘুষা ছড়িয়ে পড়েছে, যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
ভুক্তভোগী পারুল আক্তার, জাহানারা আক্তারসহ তাদের পরিবারের সদস্যরা ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেন, ফারুক মিয়ার বসতঘরের ওপর নাজিম ও মাফিজ উদ্দিনের বাঁশঝাড় ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকায় তার পরিবার চরম ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছে।
গ্রামবাসীরা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।