প্রশাসনের চাপেও থামানো যাচ্ছে না টেকনাফে মানবপাচারকারীদের অপতৎপরতা

আব্দুল গফুর:

দেশের বিভিন্ন প্রান্তের দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে স্বল্প খরচে বিনা ভিসায় মালয়েশিয়া বা অন্যান্য দেশে নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সমুদ্র উপকূল কিংবা গহীন জঙ্গলে জড়ো করে মানবপাচার চক্র। পাচারকারীদের ফাঁদে পড়ে ট্রলারে ওঠা মালয়েশিয়া যেতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের প্রশাসনিক কড়াকড়ির মাঝেও টেকনাফ সীমান্তের কচ্ছপিয়া উপকূল দিয়ে পাচার অব্যাহত রেখেছে চক্রটি।

মানবপাচারকারীদের জিম্মিদশা থেকে বিভিন্ন সম্ভাব্য স্থানে প্রশাসনের অভিযানে অস্ত্রসহ অপহৃতদের উদ্ধারের ঘটনাও ঘটেছে। এভাবে প্রতিনিয়ত যৌথ অভিযানে ভিকটিম উদ্ধার, অস্ত্র আটক এবং দালালদের সহযোগী গ্রেপ্তার হলেও প্রকৃত দালালরা অধরাই থেকে যাচ্ছে। সূত্রে জানা গেছে, টেকনাফ উপকূল দিয়ে মানবপাচার এখনো নীরবে ও নিভৃতে চলছে।

সম্প্রতি ২১ অক্টোবর (মঙ্গলবার) ভোরে ২ বিজিবির অধিনায়কের নেতৃত্বে বিজিবির বিশেষ একটি টিম মাদক ও মানবপাচারকারীদের ডেরায় দুঃসাহসিক অভিযান চালায়। অভিযানে ছয়জন জিম্মিকে মুক্ত করা হয় এবং মানবপাচারকারীদের আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এ সময় তাদের আস্তানা থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার করে বিজিবি।

দীর্ঘ ছয় ঘণ্টাব্যাপী চলা ওই অভিযানে করাচিপাড়া এলাকার মোহাম্মদ হোছনের পুত্র মো. রুবেল নামের এক দালাল সহযোগীকে আটক করতে সক্ষম হয় বিজিবি। পরে আটক দালাল সহযোগী রুবেল এবং জিম্মিদশা থেকে মুক্ত হওয়া ভিকটিমদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আটজন চিহ্নিত মানবপাচারকারীকে পলাতক আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এদিকে টেকনাফের কচ্ছপিয়া ও করাচিপাড়া উপকূলের বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন এলাকায় মালয়েশিয়াগামী মানবপাচারের একটি অঘোষিত ট্রানজিট ঘাট রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই ঘাট দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সুযোগ বুঝে মানবপাচার চালিয়ে যাচ্ছে কয়েকটি দালাল চক্র।

স্থানীয়দের মতে, কচ্ছপিয়া ও করাচিপাড়া উপকূলে মানবপাচার চক্রের একাধিক সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। এসব সিন্ডিকেটের সদস্যরা কচ্ছপিয়া, করাচিপাড়া ও আশপাশের গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা। কচ্ছপিয়া ও করাচিপাড়া উপকূল বর্তমানে মানবপাচার সিন্ডিকেটের অন্যতম কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *