প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে উত্তাল দিল্লি, বিক্ষোভের মধ্যেই মোদির বিশেষ ঘোষণা; আবারও বন্ধ ১৬ মেট্রো স্টেশন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ::

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভ আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। জন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ব্যানারে চলমান আন্দোলনে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে প্রতিদিনই বাড়ছে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা। পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে বিশেষ ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বার্তায় মোদি বলেন, দেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এজন্য দ্রুত বিচার আদালত (ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট) গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

তিনি লেখেন, “আমাদের তরুণদের কল্যাণ ও ভবিষ্যতের চেয়ে বড় কিছু হতে পারে না। প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে দ্রুত বিচার আদালত গঠন করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় সরকারের ধারাবাহিক উদ্যোগের অংশ এটি।”

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “যারা আমাদের তরুণদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করার চেষ্টা করবে, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।”

তবে সরকারের এই ঘোষণায়ও আন্দোলনকারীরা সন্তুষ্ট নন। তাদের দাবি, শুধু বিচার নয়, প্রশ্নফাঁসের দায়ে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছ থেকেও শিক্ষার্থীদের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।

বিক্ষোভে বাড়ছে ভিড়, আবারও বন্ধ ১৬ মেট্রো স্টেশন

জন্তর মন্তরে বিক্ষোভকারীদের সংখ্যা বাড়তে থাকায় নিরাপত্তার স্বার্থে আবারও ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে দিয়েছে দিল্লি মেট্রো রেল করপোরেশন (ডিএমআরসি)। বৃহস্পতিবার সকালে দেওয়া এক ঘোষণায় সংস্থাটি জানায়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এসব স্টেশনে ট্রেন থামবে না।

বন্ধ থাকা স্টেশনগুলোর মধ্যে রয়েছে—লোক কল্যাণ মার্গ, রাজীব চক, প্যাটেল চক, রামকৃষ্ণ আশ্রম মার্গ, বারাকহাম্বা রোড, সুপ্রিম কোর্ট, সেবা তীর্থ, জনপথ, মান্ডি হাউস, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, আইটিও, দিল্লি গেট, ইন্দ্রপ্রস্থ, খান মার্কেট, জোর বাগ এবং শিবাজি স্টেডিয়াম।

এর আগেও বুধবার একই ১৬টি স্টেশন প্রায় আট ঘণ্টার জন্য বন্ধ রাখা হয়েছিল। পরে সেগুলো খুলে দেওয়া হলেও বৃহস্পতিবার সকালে আবারও অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

চরম ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

মেট্রো স্টেশনগুলো বন্ধ থাকায় রাজধানীজুড়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন অফিসগামী কর্মজীবী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীরা। অনেককে দীর্ঘ সময় বাসের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। কেউ কেউ অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে ট্যাক্সি বা ক্যাব ব্যবহার করে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য উইক জানিয়েছে, জন্তর মন্তরের বিক্ষোভ ঘিরে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এবং সরকারের পাল্টা পদক্ষেপে দিল্লির পরিস্থিতি দিন দিন আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আন্দোলনকারীদের দাবির বিষয়ে দ্রুত কোনো সিদ্ধান্ত না এলে রাজধানীতে অচলাবস্থা আরও গভীর হতে পারে।

সূত্র: এমটিআই

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *