আন্তর্জাতিক ডেস্ক ::
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিতর্কে নতুন করে মুখোমুখি অবস্থানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিলেও মোদির বক্তব্যকে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করেছেন রাহুল। তিনি দাবি করেছেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার অবনতির জন্য মোদিকে শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।
বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, দেশের তরুণদের ভবিষ্যতের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছু হতে পারে না। প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অপরাধে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে বিশেষ দ্রুত বিচার আদালত গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
মোদি বলেন, “যারা আমাদের তরুণদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করার চেষ্টা করবে, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার ধারাবাহিকভাবে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিচ্ছে।”
তবে প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পরই পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানান লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি সরাসরি মোদিকে উদ্দেশ্য করে লেখেন, “আপনিই আমাদের তরুণদের ভবিষ্যতের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করেছেন। আপনার শাসনামলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের মুখে পড়েছে। যারা এর জন্য দায়ী, তাদের সবাইকে আপনি রক্ষা করেছেন।”
রাহুল আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো অত্যন্ত স্পষ্ট এবং যৌক্তিক। তার ভাষায়, “প্রথমত, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, শিক্ষার্থীদের কাছে প্রধানমন্ত্রীকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। তৃতীয়ত, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর যারা হামলা চালিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।”
ভারতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও বিক্ষোভ চলছে। বিভিন্ন শিক্ষার্থী সংগঠন এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো অভিযোগ করছে, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় সরকারের ব্যর্থতার কারণে লাখো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকার দাবি করছে, অপরাধীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে মোদির ঘোষিত দ্রুত বিচার আদালত গঠনের সিদ্ধান্ত এবং রাহুল গান্ধীর পাল্টা সমালোচনার পর বিষয়টি ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা পেয়েছে। প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে সরকার ও বিরোধী দলের এই বাকযুদ্ধ আগামী দিনগুলোতে আরও তীব্র হতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।
সূত্র: এনডিটিভি