মোঃ মনির হোসেন:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে এবারের নির্বাচনে মোট ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন তিন হেভিওয়েট প্রার্থী—বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য মো. হারুনুর রশিদ, স্বতন্ত্র প্রার্থী এম. এ. হান্নান এবং ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জোটের প্রার্থী ও চাঁদপুর জেলা জামায়াতের আমির মো. বিল্লাল হোসেন মিয়াজী। নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামা বিশ্লেষণে উঠে এসেছে এই তিন প্রার্থীর সম্পদ, আয়, মামলার সংখ্যা এবং আগ্নেয়াস্ত্র সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।
হলফনামা অনুযায়ী সম্পদের দিক থেকে অন্য সব প্রার্থীকে ছাড়িয়ে গেছেন বিএনপির প্রার্থী মো. হারুনুর রশিদ। তার বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ১২ লাখ ১১ হাজার ১৪১ টাকা। নগদ অর্থ, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থ, বন্ড, সঞ্চয়পত্র, স্থায়ী আমানত, গাড়ি, সোনা, ইলেকট্রনিক পণ্য, আসবাবপত্র ও আগ্নেয়াস্ত্রসহ তার অস্থাবর সম্পদের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৯০ কোটি টাকা। তার স্ত্রীর অস্থাবর সম্পদের মূল্য দেখানো হয়েছে ২০ কোটি টাকা। এছাড়া অকৃষি জমি, আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন, বাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্টসহ তার স্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ৭০ কোটি টাকা এবং স্ত্রীর স্থাবর সম্পদের মূল্য ২০ কোটি ৬০ লাখ টাকা। আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী মো. হারুনুর রশিদের মোট সম্পদের পরিমাণ ১১৮ কোটি ২৩ লাখ ৩৫ হাজার ৩৬৯ টাকা এবং তার স্ত্রীর ৩৯ কোটি ৬৪ লাখ ১০ হাজার ৫৩২ টাকা। তার দুই সন্তানের নামে থাকা সম্পদের পরিমাণও হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী এম. এ. হান্নানের বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৩৭ লাখ ৪৫ হাজার ৪৯ টাকা, যা এই তিন প্রার্থীর মধ্যে তুলনামূলকভাবে বেশি। তবে মোট সম্পদের পরিমাণে তিনি বিএনপির প্রার্থীর চেয়ে পিছিয়ে। হলফনামা অনুযায়ী তার অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৩৩ কোটি ৩৪ লাখ ১৫ হাজার ৪৪৮ টাকা এবং তার স্ত্রীর ৩৮ কোটি ৩১ লাখ ৬৯ হাজার ১৩৪ টাকা। কৃষি জমি, আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন এবং অ্যাপার্টমেন্টসহ তার স্থাবর সম্পদের মূল্য ১৪ কোটি ৯১ লাখ ১৩ হাজার ৩৯৪ টাকা এবং তার স্ত্রীর ৩৪ কোটি ৪৬ লাখ ৭৪ হাজার ২৫০ টাকা। আয়কর রিটার্নে তার মোট সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৪২ কোটি ৫৯ লাখ ৭৭ হাজার ২৫৪ টাকা এবং তার স্ত্রীর ৩৬ কোটি ৯৭ লাখ ৭১ হাজার ৭০৩ টাকা।
অন্যদিকে ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জোটের প্রার্থী মো. বিল্লাল হোসেন মিয়াজীর বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে মাত্র ৫ লাখ ৪ হাজার টাকা। পেশায় তিনি একজন শিক্ষক। তার হলফনামা অনুযায়ী নগদ অর্থ, ব্যাংক জমা, মোটরসাইকেল ও স্ত্রীর স্বর্ণালঙ্কারসহ তার অস্থাবর সম্পদের আনুমানিক মূল্য ২৩ লাখ ৯৫ হাজার টাকা এবং স্থাবর সম্পদের মূল্য ৬৫ লাখ টাকা।
এই তিন হেভিওয়েট প্রার্থীর মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য পার্থক্য হলো আগ্নেয়াস্ত্রের মালিকানা। বিএনপির প্রার্থী মো. হারুনুর রশিদ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী এম. এ. হান্নানের আগ্নেয়াস্ত্র থাকলেও ১০ দলীয় ঐক্য জোটের প্রার্থী মো. বিল্লাল হোসেন মিয়াজীর নামে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র নেই।
মামলার দিক থেকেও তিন প্রার্থীর মধ্যে বড় পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। বিএনপির প্রার্থী মো. হারুনুর রশিদের বিরুদ্ধে মোট ৪টি মামলা ছিল, যার মধ্যে তিনি ইতোমধ্যে ২টি মামলায় খালাস পেয়েছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী এম. এ. হান্নানের বিরুদ্ধে মোট ৩টি মামলা ছিল, এর মধ্যে ২টি মামলা থেকে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন। অপরদিকে মো. বিল্লাল হোসেন মিয়াজীর বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মোট ১৫টি মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে তিনি ৯টি মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন এবং বাকি মামলাগুলো বর্তমানে বিচারাধীন। রাজনৈতিক মামলায় তিনি প্রায় ১ বছর ৬ মাস কারাবরণ করেন।
স্থানীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় এই তিন প্রার্থীর সম্পদ, মামলা ও ব্যক্তিগত তথ্য নিয়ে ফরিদগঞ্জে ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে। নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই এসব তথ্য ভোটের সমীকরণে কী প্রভাব ফেলে—সেদিকেই নজর রাখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।