জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক:
বিতর্ক ও সমালোচনার মধ্যেই শুরু হলো আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমস। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে পর্দা উঠেছে ২০তম এশিয়ান গেমসের। তবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানও খুব বেশি জমকালো হয়নি। উল্টো প্রায় ৩০ হাজার আসনের গ্যালারির কয়েক হাজার আসনই ছিল ফাঁকা।
সাধারণত এশিয়ান গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দর্শকদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। টিকিটের দাম বেশি হলেও গ্যালারি থাকে পরিপূর্ণ। কিন্তু নাগোয়া এশিয়ান গেমসের উদ্বোধনে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। মূল গ্যালারির পাশাপাশি মিডিয়া ট্রিবিউনেও অনেক আসন ফাঁকা ছিল।
স্বাগতিক জাপান প্রযুক্তিতে উন্নত দেশ হওয়ায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ঘিরে ক্রীড়াপ্রেমীদের প্রত্যাশাও ছিল বেশি। এর আগে হাংজু এশিয়ান গেমসে চীন এবং জাকার্তা এশিয়ান গেমসে স্বাগতিকরা জমকালো আয়োজন করেছিল। বিশেষ করে হাংজু গেমসে লেজার শো ও প্রযুক্তির ব্যবহার ছিল উল্লেখযোগ্য। তবে নাগোয়া এশিয়ান গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তেমন কোনো চোখে পড়ার মতো আয়োজন দেখা যায়নি।
জাপান সময় সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। রাত ৮টার কয়েক মিনিট আগে অনুষ্ঠান শেষ হয়। প্রায় দুই ঘণ্টার এই আয়োজনে প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা ছিল অ্যাথলেটদের মার্চ পাস্ট।
মার্চ পাস্টেও কিছুটা অসঙ্গতি চোখে পড়ে। সাধারণত ইংরেজি বর্ণানুক্রম অনুসারে দেশগুলো মার্চ পাস্টে অংশ নেয়। তবে এবার সেই ধারাবাহিকতায় ব্যত্যয় দেখা যায়। এমনকি একটি দেশের নাম একাধিকবার উচ্চারণের ঘটনাও ঘটে।
সাধারণত বড় ক্রীড়া আসরের মার্চ পাস্টে অ্যাথলেটরা দাঁড়িয়ে অংশ নেন। তবে নাগোয়া এশিয়ান গেমসে অংশগ্রহণকারী সবাইকে বসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
বাংলাদেশের পতাকা বহন করেন শুটার আব্দুল্লাহ হেল বাকী ও কারাতেকা হুমায়রা আক্তার অন্তরা। আগামীকাল নারী ক্রিকেট, হকি ও ব্যাডমিন্টনসহ যেসব খেলায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ রয়েছে, সেসব দলের খেলোয়াড়দের মার্চ পাস্টে আনা হয়নি। কোচ, কর্মকর্তা ও বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) স্টাফ মিলিয়ে বাংলাদেশের প্রায় ৫০ জন মার্চ পাস্টে অংশ নেন।
মার্চ পাস্টের পর জাপান অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এবং অলিম্পিক কাউন্সিল অব এশিয়ার সভাপতি স্বাগত বক্তব্য দেন। অলিম্পিক কাউন্সিল অব এশিয়ার সভাপতি এশিয়ান গেমসের মাধ্যমে ক্রীড়াঙ্গনকে এক সুতোয় বাঁধার আহ্বান জানান।
জাপান অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি টোকিও অলিম্পিক এবং সর্বশেষ দুই এশিয়ান গেমসের মতো নাগোয়া এশিয়ান গেমসও সফলভাবে আয়োজনের আশা প্রকাশ করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির সভাপতি কভেন্ট্রি উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া জাপানের সম্রাট, সম্রাজ্ঞী ও প্রধানমন্ত্রীও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
আনুষ্ঠানিকভাবে গেমসের উদ্বোধন ঘোষণার পর জাপানের একজন হাই জাম্প অ্যাথলেট অংশগ্রহণকারী সবার পক্ষে শপথ নেন। এরপর জাপানের হয়ে অলিম্পিক ও এশিয়ান গেমসে স্বর্ণজয়ী ক্রীড়াবিদদের অংশগ্রহণে মশাল প্রজ্জ্বলন করা হয়।
উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি গান ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডও ছিল। তবে এসব আয়োজন খুব বেশি চোখ ধাঁধানো বা মনোমুগ্ধকর ছিল না।