বনানী-গুলশানে স্পা সেন্টারের আড়ালে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার:

রাজধানীর অভিজাত এলাকা বনানী ও গুলশানের কয়েকটি স্পা সেন্টারকে ঘিরে অসামাজিক কার্যকলাপ, মাদক লেনদেন এবং অনৈতিক ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কিছু স্পা সেন্টারের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালিত হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারির অভাবে এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হচ্ছে না।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বনানী এলাকার একটি বহুতল ভবনের সপ্তম তলায় পরিচালিত একটি স্পা সেন্টারকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে স্পা ব্যবসার আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং মাদক কেনাবেচা চলে। অভিযোগকারীদের দাবি, সন্ধ্যার পর ওই ভবনে বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষের আনাগোনা বেড়ে যায়, যা এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অভিযুক্তদের মধ্যে কেউ কেউ নিজেদের প্রভাবশালী ব্যক্তি কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের আত্মীয় বা পরিচিত বলে দাবি করেন। এ কারণে অনেকেই তাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলতে ভয় পান বলেও অভিযোগ করেন তারা।

এলাকাবাসীর প্রশ্ন, যদি অভিযোগগুলো সত্য হয়ে থাকে, তাহলে রাজধানীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও নিরাপত্তাবেষ্টিত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কীভাবে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে? সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর নিয়মিত তদারকি থাকা সত্ত্বেও অভিযোগগুলোর কার্যকর তদন্ত না হওয়ায় নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে গুলশান-১ এলাকার একটি স্পা সেন্টারকে কেন্দ্র করেও। স্থানীয়দের দাবি, ওই প্রতিষ্ঠানে স্পা সেবার আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়। অভিযোগ রয়েছে, চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে কিছু নারীকে সেখানে নিয়ে এসে বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হয়। যদিও এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, এসব প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য ধনী ও প্রভাবশালী পরিবারের সদস্যদের টার্গেট করা। বিভিন্ন কৌশলে তাদের সেখানে নিয়ে গিয়ে পরে আর্থিকভাবে হয়রানি বা ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নিতে সংশ্লিষ্ট স্পা সেন্টারে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। অভিযোগের বিষয়ে দায়িত্বরত ব্যক্তিদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করলেও তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, যদি এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত না হয়, তাহলে রাজধানীর অভিজাত এলাকাগুলোতে অপরাধচক্র আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। তারা অবিলম্বে পুলিশ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, ঢাকা মহানগর পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সমন্বয়ে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানান।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে যদি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে প্রকৃত তথ্য উদঘাটনের মাধ্যমে নিরপরাধ কাউকে যেন হয়রানির শিকার হতে না হয়, সে বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *