বন্দরের কুড়িপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে প্রকাশ্যে ঘুষ বাণিজ্য

মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার কুড়িপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে ও ধারাবাহিকভাবে ঘুষ বাণিজ্য চলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, তহশিলদার মফিজুল ইসলাম–এর নেতৃত্বে ওই ভূমি অফিসে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী দুর্নীতির চক্র, যেখানে ঘুষ ছাড়া কোনো নাগরিক সেবা পাওয়া যাচ্ছে না।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয় একাধিক সূত্র অভিযোগ করে জানায়, তহশিলদার মফিজুল ইসলামের পাশাপাশি অফিসের প্রধান সহকারী সেলিম, সৈকত, মহিউদ্দিন, শিল্পী রানী এবং তার ঘনিষ্ঠজন পিন্টু (ভাতিজা) মিলে ভূমি সংক্রান্ত সেবা দিতে নিয়মিতভাবে অবৈধ অর্থ আদায় করছেন।

ঘুষ ছাড়া নেই সেবা

অভিযোগ অনুযায়ী, নামজারি, খতিয়ান সংশোধন, ভূমি উন্নয়ন কর প্রদানসহ সাধারণ যেকোনো ভূমি সেবার জন্য আট থেকে দশ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ আদায় করা হচ্ছে। জমির কাগজপত্রে সামান্য ত্রুটি থাকলে তা সংশোধনের নামে ঘুষের অঙ্ক গিয়ে দাঁড়ায় কয়েক লাখ টাকায়—কখনো কখনো পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত। নির্ধারিত সরকারি ফি থাকলেও তার বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে বলে জানান ভুক্তভোগীরা।

ঘুষ গ্রহণের দৃশ্য প্রত্যক্ষ

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) আনুমানিক সকাল ১১টার দিকে কুড়িপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গিয়ে দেখা যায়, অফিস সহকারী শিল্পী রানী প্রকাশ্যেই এক সেবা গ্রহীতার কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণ করছেন। বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করে।

তহশিলদারের সম্পদ নিয়ে প্রশ্ন

তহশিলদার মফিজ উদ্দিন (পিতা: মৃত মিছির আলী, মাতা: মৃত আল বাহার)–এর সম্পদ নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি চাকরিতে থেকেও তিনি জালকুড়ি এলাকায় একাধিক ফ্ল্যাট, আলিশান ভবনসহ নামে-বেনামে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন, যা তার বৈধ আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

তহশিলদারের বক্তব্য

এ বিষয়ে তহশিলদার মফিজ উদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,
“এক সাংবাদিক শিল্পী নারীর কাছে টাকা চাইলে শিল্পী টাকা দিতে রাজি হননি। এ কারণে তিনি ভিডিও করেছেন। শিল্পী ওই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিতে গেছেন।”
তিনি আরও বলেন, “আপনি যদি কিছু জানতে চান, তাহলে সহকারী কমিশনার (ভূমি)–এর সঙ্গে কথা বলেন।”
এ কথা বলে তিনি ডাক্তারের কাছে যাওয়ার কথা জানিয়ে অফিস ত্যাগ করেন।

প্রশাসনের বক্তব্য

এ বিষয়ে বন্দর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি)–এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,
“অভিযোগের বিষয়টি আমি জেনেছি। তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

তদন্ত ও শাস্তির দাবি

স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ভূমি অফিসে চলমান দুর্নীতির বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অভিযুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং তাদের অবৈধ সম্পদের হিসাব খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান তারা।

স্থানীয়দের মতে, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভূমি অফিসে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *