মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ব্যবহার করে বাংলাদেশি পাসপোর্ট তৈরির চেষ্টাকালে এক রোহিঙ্গা যুবককে আটক করেছে কর্তৃপক্ষ। পরে তাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে পাসপোর্ট আবেদনের যাচাই-বাছাইয়ের সময় আবেদনকারীর পরিচয় নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে তাকে আটক করা হয়। বিষয়টি বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকালে নিশ্চিত করেন ফতুল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মান্নান।
পাসপোর্ট আবেদনে আটক যুবক নিজেকে মো. জামাল শেখ নামে পরিচয় দেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, তার বাবার নাম মো. মুন্নু শেখ, মায়ের নাম রুনা বেগম এবং জন্মতারিখ ২২ জুন ২০০২। জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর হিসেবে তিনি ব্যবহার করেন ১৯৫৯৩৪৪। ঠিকানা দেখানো হয় গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পশ্চিম পাড়া এলাকার ভূবশী, ডুবশী গ্রাম। জন্মস্থান হিসেবেও গোপালগঞ্জ উল্লেখ করা হয়।
পাসপোর্ট অফিস সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিকভাবে কাগজপত্র যাচাইয়ের সময় আবেদনকারীর চেহারার সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্রে সংযুক্ত ছবির অমিল চোখে পড়ে। এতে কর্মকর্তাদের সন্দেহ হলে তার বায়োমেট্রিক তথ্য যাচাই করা হয়। ফিঙ্গারপ্রিন্ট যাচাইয়ের একপর্যায়ে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ডাটাবেজে তার তথ্য পাওয়া যায়।
ডাটাবেজে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আটক যুবকের প্রকৃত নাম রাইয়াস। তার বাবার নাম মো. আইয়ুব এবং জন্মতারিখ ৫ জানুয়ারি ২০০১। তার রোহিঙ্গা পরিচয়পত্রের রেফারেন্স নম্বর ১১১২০১৭১২১৯১০২। নথিতে আরও উল্লেখ রয়েছে, তিনি ২০১৭ সালের ৯ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেন।
নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের উপপরিচালক শামীম আহমেদ জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক যুবক স্বীকার করেছেন যে তিনি একজন রোহিঙ্গা নাগরিক। অবৈধভাবে অন্য একজন বাংলাদেশি নাগরিকের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ব্যবহার করে বাংলাদেশি পাসপোর্ট পাওয়ার চেষ্টা করছিলেন তিনি।
ঘটনার পরপরই তাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এ বিষয়ে ফতুল্লা থানার ওসি আব্দুল মান্নান বলেন, ভুয়া পরিচয় ব্যবহার, জালিয়াতি ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ নথি জাল করার চেষ্টার অভিযোগে আটক যুবকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাকে আজ আদালতে পাঠানো হবে।