বরুড়াকে চিনবে বাংলাদেশ : গোলাপের সুগন্ধি না কি নর্দমার দুর্গন্ধ, সিদ্ধান্ত কর্মীদের হাতে : কায়সার আলম সেলিম

মো. আনজার শাহ:-

রাজনীতির মঞ্চে অনেক বক্তৃতা হয়, অনেক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় কিন্তু কিছু কথা থাকে যা সরাসরি বুকে গিয়ে লাগে। বরুড়া উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত যৌথ মতবিনিময় সভায় ঠিক তেমনই এক অনুপ্রেরণামূলক অথচ সতর্কতামূলক বক্তব্য রাখলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি কায়সার আলম সেলিম। তাঁর প্রতিটি কথায় ছিল একদিকে গর্বের ইতিহাস, অন্যদিকে ভবিষ্যতের কঠিন চ্যালেঞ্জের সতর্কবার্তা।

◼ তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা, সুমনের দায়িত্বে অনুপ্রেরণা:

সভার শুরুতেই আবেগভরা কণ্ঠে কায়সার আলম সেলিম বলেন, “আপনাদের নেতা জাকারিয়া তাহের সুমনকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়ে আপনাদের মাঝে পাঠানো হয়েছে এই সম্মান কেবল সুমন সাহেবের একার নয়, এই সম্মান বরুড়ার মাটির, বরুড়ার প্রতিটি ত্যাগী নেতা-কর্মীর।”

তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে এই দায়িত্ব প্রদানের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, বরুড়ার একজন সন্তান আজ সমগ্র বাংলাদেশের মন্ত্রী এটি বরুড়াবাসীর জন্য ঐতিহাসিক গৌরবের মুহূর্ত।

◼ রক্ত-ঘামে লেখা ‘চ্যাম্পিয়ন উপজেলা’র ইতিহাস:

অতীতের সংগ্রামের স্মৃতি তুলে ধরে কায়সার আলম সেলিম বলেন, ৫ আগস্টের আগের চার-পাঁচটি বছর ছিল বরুড়ার নেতা-কর্মীদের জন্য অগ্নিপরীক্ষার কাল। প্রতিটি ইউনিয়নে, প্রতিটি পৌরসভায় মামলা-হামলার শিকার হয়েছেন নেতা-কর্মীরা। জেল থেকে বের হয়ে কোর্টে হাজিরা দিয়ে সোজা চলে গেছেন মানুষের আঙিনায়, বাগানে  সেখানে বসেই করেছেন দলীয় সাংগঠনিক মিটিং।

তিনি গর্বিত কণ্ঠে বলেন, “যখন জাকারিয়া তাহের সুমন দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হলেন, তখন তিন জেলা আপনাদের ‘চ্যাম্পিয়ন উপজেলা’ উপাধি দিয়েছিল। মরহুম এ কে এম আবু তাহেরের মৃত্যুর পর উপনির্বাচনে সুমন সাহেব সংসদ সদস্য হলে দক্ষিণ জেলার দশটি উপজেলা ও চারটি পৌরসভা আপনাদের চ্যাম্পিয়ন সংগঠক হিসেবে চিনেছিল।” সেই চ্যাম্পিয়নের মুকুট আজও বরুড়ার নেতা-কর্মীদের মাথায় তবে সেই মুকুট ধরে রাখার দায়িত্বও তাঁদেরই।

◼ গোলাপের সুগন্ধি না নর্দমার দুর্গন্ধ, কঠিন সতর্কবার্তা:

সভার সবচেয়ে তীক্ষ্ণ ও হৃদয়গ্রাহী মুহূর্তে কায়সার আলম সেলিম এমন একটি তুলনা তুলে ধরলেন, যা উপস্থিত সকলকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। তিনি বলেন, “পুষ্পিত গোলাপের সুগন্ধ যেমন বাতাসে বহুদূর ছড়িয়ে পড়ে, ঠিক তেমনি নর্দমার দুর্গন্ধও বাতাসে বহুদূর যায়। বরুড়াকে বাংলাদেশ কীভাবে চিনবে গোলাপের সুগন্ধে, নাকি নর্দমার দুর্গন্ধে সেই সিদ্ধান্ত এখন আপনাদের প্রতিটি নেতা-কর্মীর হাতে।”

তিনি সরাসরি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, জাকারিয়া তাহের সুমনের* নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত বরুড়া গড়া। এই অঙ্গীকার বাস্তবায়িত না হলে সমগ্র বাংলাদেশ বরুড়াকে নেতিবাচকভাবে চিনবে। আর যদি তৃণমূলের প্রতিটি কর্মী সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেন, তাহলে বরুড়ার সুনাম ছড়িয়ে পড়বে সারা দেশে ঠিক গোলাপের সুগন্ধের মতো।

◼ উন্নয়নে ন্যায্য বণ্টন, দশজনের রাস্তা আগে:

উন্নয়নের দর্শন তুলে ধরতে গিয়ে কায়সার আলম সেলিম বলেন, “যে রাস্তায় দশজন মানুষ চলেন, সেই রাস্তা আগে হবে এটাই হবে উন্নয়নের মূলনীতি।”মন্ত্রীর উদ্যোগে প্রাপ্ত বরাদ্দ রেশিও অনুযায়ী ন্যায়সংগতভাবে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি। ইতিমধ্যে মসজিদ-মন্দিরসহ বিভিন্ন খাতে প্রাপ্ত বরাদ্দ বিতরণ শুরু হয়েছে বলেও তিনি জানান।

তিনি বলেন, বরুড়ার প্রায় চার লক্ষ ভোটারের আস্থা অর্জন করতে হলে সুশাসন ও ন্যায়সংগত উন্নয়নের বিকল্প নেই। আর এই লক্ষ্য অর্জনে তৃণমূল কর্মীদের সক্রিয় ও আন্তরিক সহযোগিতাই একমাত্র পথ।

সভায় বরুড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভা থেকে আগত বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলসহ অন্যান্য অঙ্গ সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। সভা শেষে চাঁদাবাজমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত ও মাদকমুক্ত বরুড়া গড়ার দৃঢ় শপথ নেন উপস্থিত সকলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *