আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের শক্তিশালী অবস্থান ও ট্রেজারি বন্ডের উচ্চ সুদহারের চাপে বিশ্ববাজারে আবারও কমেছে স্বর্ণের দাম। এতে টানা দ্বিতীয় সপ্তাহের মতো সাপ্তাহিক দরপতনের মুখে পড়েছে মূল্যবান এই ধাতু।
শুক্রবারের বাজারে স্পট স্বর্ণের দাম দশমিক ৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৪০ দশমিক শূন্য ৬ ডলারে নেমে আসে। সব মিলিয়ে চলতি সপ্তাহে স্বর্ণের দাম কমেছে প্রায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচার্সের দামও ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৬২ দশমিক ৩০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ এখনো তুলনামূলক কঠোর নীতি বজায় রাখায় স্বর্ণের বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এবং দীর্ঘমেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদহার বেড়ে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের কাছে সুদবিহীন স্বর্ণের আকর্ষণ কিছুটা কমেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারের দুর্বলতার তথ্যের পরও ফেডের নীতিতে দ্রুত পরিবর্তনের প্রত্যাশা সীমিত রয়েছে। ফলে মূল্যস্ফীতি ও সুদহারের গতিপথের দিকে তাকিয়ে আছেন বিনিয়োগকারীরা।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। সপ্তাহজুড়ে রুপা, প্ল্যাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের বাজারেও দরপতন দেখা গেছে।
এদিকে বাংলাদেশের বাজারেও সম্প্রতি স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সর্বশেষ ২৯ সেপ্টেম্বরের নির্ধারিত দরে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা। একইভাবে ২১ ক্যারেটের দাম ২ লাখ ১৮ হাজার ২৯২ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৪০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৩ হাজার ১৪৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাজুস জানিয়েছে, নতুন দর পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত দেশের জুয়েলারি দোকানগুলোতে কার্যকর থাকবে। তবে অলংকারের নকশা ও ধরন অনুযায়ী মজুরি আলাদা হতে পারে।