বৃষ্টি-ঢল-ভূমিধসে নেপালে চার দিনে নিহত ২১, নিখোঁজ ৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

টানা বর্ষণ থেকে সৃষ্ট পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসে বিপর্যস্ত নেপাল। গত ২৪ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশটির বিভিন্ন এলাকায় এসব দুর্যোগে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও পাঁচজন। আহত পাঁচজনকে উদ্ধার করা হয়েছে।

নেপালের দুর্যোগ মোকাবিলা সংস্থা ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটির (এনডিআরআরএমএ) তথ্যের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এএনআই এ খবর জানিয়েছে।

এনডিআরআরএমএ জানিয়েছে, চার দিনে নিহত ২১ জনের মধ্যে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে ভূমিধসে। নিখোঁজ পাঁচজনও ভূমিধসের ঘটনায় নিখোঁজ হয়েছেন।

দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশটির পার্বত্য ও দুর্গম অঞ্চলগুলো। পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসের কারণে প্রায় ২৬০টি বাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আরও প্রায় ৮০টি বাড়ি।

দুর্যোগকবলিত এলাকা থেকে প্রায় ৩ হাজার মানুষকে উদ্ধার করে বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরে নেওয়া হয়েছে। দুর্গম পার্বত্য এলাকাগুলোতে আটকে পড়াদের উদ্ধারে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হয়েছে। জাজারকোট, মাগড়ি ও শঙ্খুয়াসভা জেলার দুর্গম এলাকাতেও উদ্ধার অভিযান চালানো হয়েছে।

কোথায় সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি

নেপালের দুর্যোগ মোকাবিলা সংস্থার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে দেশটিতে এই ভারী বৃষ্টিপাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

২৪ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশটির ১০৬টি এলাকায় ১০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে গণ্ডকী প্রদেশের নবলপরশি জেলার দুমকুয়ালিতে। সেখানে ৪৬৬ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

আটকা পড়েছেন বিদেশি পর্যটকরাও

দুর্যোগের সময় নেপালে প্রায় ৯ হাজার বিদেশি পর্যটক, পর্বতারোহী ও ট্রেকার অবস্থান করছিলেন বলে দেশটির জাতীয় পর্যটন বোর্ডের তথ্য থেকে জানা গেছে। তাঁদের অনেকেই বিভিন্ন এলাকায় আটকা পড়েছেন।

এ পরিস্থিতিতে বিদেশি পর্যটকদের নেপালে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার এবং স্থানীয় প্রশাসনের নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে এনডিআরআরএমএ।

আগের দুর্যোগের ক্ষত না শুকাতেই নতুন বিপর্যয়

এর আগে গত ২৬ আগস্ট নেপালের উত্তরাঞ্চলে ভোতিকোশি ও এর শাখানদী লেহন্দে নদীর একটি ব্যারিয়ার হ্রদ ভেঙে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছিল। তুষার, পাথর বা অন্যান্য প্রাকৃতিক বাধার কারণে নদীর পানির প্রবাহ আটকে যে জলাধার তৈরি হয়, সেটিকে ব্যারিয়ার হ্রদ বলা হয়।

ওই দুর্যোগে ১ হাজার ৫০০ জন নিহত এবং ৫ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ হওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। নিখোঁজদের অনেকের সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি।

এরই মধ্যে নতুন করে ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসে নেপালের বিভিন্ন এলাকায় প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *