খসরু মৃধা:
গাজীপুরের কালীগঞ্জে জমিতে সুপারি চারা রোপণকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে একটি পরিবারের চার সদস্যকে মারধর, বসতঘরে ভাঙচুর ও স্বর্ণালংকারসহ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত ২১ সেপ্টেম্বর উপজেলার দক্ষিণ নারগানা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
এ ঘটনায় মো. চাঁন মিয়া ভাঙ্গী নামে এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় চাঁন মিয়ার স্ত্রী মোছা. ফরিদা খাতুন কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
লিখিত অভিযোগে দক্ষিণ নারগানা এলাকার জনি, জুয়েল, আশিক ওরফে সাব্বির, শাহিনা বেগম, জরিনা বেগম, সুমন, শাকিল মোড়ল ও আবির মোড়লকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২১ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে চারটার দিকে দক্ষিণ নারগানা এলাকায় নিজেদের জমিতে সুপারি চারা রোপণ করছিলেন চাঁন মিয়া ভাঙ্গী। এ সময় কয়েকজন এসে তাঁকে চারা রোপণে বাধা দেন। একপর্যায়ে প্রায় ২০টি সুপারি চারা উপড়ে ফেলা হয়। এতে প্রায় দুই হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, চারা উপড়ে ফেলার প্রতিবাদ করলে পরে আরও কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে আসেন। তাঁরা চাঁন মিয়াকে মারধর করেন। এ সময় চাইনিজ কুড়াল দিয়ে তাঁর মাথা ও পেটের বাঁ পাশে আঘাত করা হয় এবং ছেনের আঘাতে ডান চোখের ওপর কেটে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
চাঁন মিয়ার চিৎকার শুনে তাঁর স্ত্রী ফরিদা খাতুন, ছেলে মো. তরিকুল ইসলাম ও ছেলের স্ত্রী লিবা আক্তার ঘটনাস্থলে গেলে তাঁদেরও মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে তরিকুল ইসলামের বাঁ পায়ে গুরুতর আঘাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। ফরিদা খাতুন ও লিবা আক্তারও আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
ফরিদা খাতুনের করা অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, হামলার সময় নারীদের পরনের কাপড় টানাহেঁচড়া করা হয়। এ সময় দুটি স্বর্ণের চেইন নিয়ে যাওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। পরে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা বসতঘরে ঢুকে বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর করেন এবং আলমারিতে থাকা ৫৫ হাজার টাকা নিয়ে যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ভাঙচুরে প্রায় ৩৫ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
পরে স্থানীয় লোকজন আহত ব্যক্তিদের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর চাঁন মিয়া ভাঙ্গীর শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন বলে জানিয়েছেন তাঁর স্ত্রী ফরিদা খাতুন।
ফরিদা খাতুন বলেন, ঘটনার পর পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা এবং স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলায় থানায় অভিযোগ দিতে কিছুটা দেরি হয়েছে। তিনি ঘটনার তদন্ত করে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।