স্পোর্টস ডেস্ক ::
আর্জেন্টিনার ফুটবল কোচেস অ্যাসোসিয়েশন (এটিএফএ)-এর ভেতরে ‘সনদ বিক্রি চক্রের’ সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে সাবেক আর্জেন্টাইন ফুটবলার ও কোচ আলেহান্দ্রো মানকুসোর বিরুদ্ধে। একসময় কিংবদন্তি ফুটবলার দিয়েগো ম্যারাডোনার সহকারী কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মানকুসোর বিরুদ্ধে অভিযোগ, কোচিং কোর্স সম্পন্ন না করেই সাবেক খেলোয়াড়দের লাইসেন্স পাইয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হতো।
সংবাদমাধ্যম ইউওএল-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আর্জেন্টিনার অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ কোচিং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে একটি ‘লাইসেন্সিং মাফিয়া’ বা লাইসেন্স বিক্রি চক্র সক্রিয় রয়েছে। এই চক্রের সঙ্গে মানকুসোর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাবেক খেলোয়াড়দের কোচিং কোর্স না করেই লাইসেন্স দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হতো। এমনকি মাত্র ১০ দিনের মধ্যে লাইসেন্স দেওয়ার কথাও বলা হতো। এ ধরনের লাইসেন্স পেতে আবেদনকারীদের প্রায় ১ লাখ ব্রাজিলিয়ান রিয়াল দিতে হতো বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
প্রকাশিত একটি অডিও রেকর্ডিংয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ফুটবল খেলা সাবেক তারকাদের অনলাইন কোর্স করার প্রয়োজন নেই—এমন একটি সমঝোতা ফেডারেশন সভাপতির সঙ্গে করা হয়েছে। তবে অডিওতে ওই ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করা হয়নি।
অভিযোগ অনুযায়ী, মানকুসোর মাধ্যমে কোচিং লাইসেন্স পাওয়া ব্যক্তিদের তালিকায় রয়েছেন ব্রাজিলের সাবেক ফুটবলার থিয়াগো সিলভা, লুইজ গুস্তাভো, দিয়েগো লুগানো, পাওলো গুয়েরেরো, রবার্তো কার্লোস, ফেলিপে মেলো, অ্যালেক্স ডি সুজা, পেতকোভিচ ও পাওলিনহো।
ব্রাজিলের ফুটবলারদের হাতে থাকা সনদের একটি ছবিতে থিয়াগো সিলভার সনদও দেখা যায়। সেখানে সনদটির তারিখ ডিসেম্বর ২০২৩ উল্লেখ রয়েছে। সনদটিতে স্বাক্ষর রয়েছে ভিক্টর কোকোর, যিনি ২০২০ সালে এটিএফএর পরিচালকের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মানকুসো জানিয়েছেন, ব্রাজিলের অনেক ফুটবলার তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন কোচিং লাইসেন্স পাওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে। তিনি তাদের ফেডারেশনের যোগাযোগের তথ্য দেন এবং সরাসরি যোগাযোগ করতে বলেন।
মানকুসোর ভাষ্য, তিনি বর্তমানে ফেডারেশনের কোনো অংশ নন। আবেদনকারীরা কীভাবে লাইসেন্স পেতে পারেন, সে বিষয়ে তিনি শুধু প্রক্রিয়াটি সহজ করে দেন; এর বেশি কিছু করেন না।