ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলা, লা গুয়াইরাকে দুর্যোগকবলিত এলাকা ঘোষণা

পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা। বুধবার সাতের বেশি মাত্রার দুটি ভূমিকম্প আঘাত হানার পর সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চল হিসেবে লা গুয়াইরাকে ‘দুর্যোগকবলিত এলাকা’ ঘোষণা করেছেন দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। ডেলসি রদ্রিগেজ বলেন, রাজধানী কারাকাসের উত্তরে ক্যারিবীয় উপকূলে অবস্থিত লা গুয়াইরা অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সেখানে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে এবং উদ্ধারকর্মীরা সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

তিনি জানান, আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিভিন্ন দেশ থেকে আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল ভেনেজুয়েলায় পৌঁছাবে। দুর্যোগ মোকাবিলায় সহায়তার আশ্বাস দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র, ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র, এল সালভাদর, মেক্সিকো ও কাতারকে ধন্যবাদ জানান তিনি।এদিকে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন দেশটির ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। নিজের অফিসিয়াল টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেওয়া এক বার্তায় তিনি ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস বলেন, “এই সংকটের সময়ে আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হবে ঐক্য, সংহতি ও পারস্পরিক সহযোগিতা।”

মাদুরো জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কেউ যেন একা না থাকে। প্রতিটি সম্প্রদায়কে শিশু, প্রবীণ ও অসুস্থদের পাশে দাঁড়াতে হবে। পাশাপাশি উদ্ধারকারী ও চিকিৎসা দলের কাজে সহযোগিতা করারও আহ্বান জানান তিনি। বার্তায় তিনি আরও বলেন, “ভেনেজুয়েলা আজ একটি কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি। তবে আমরা বিশ্বাস, শৃঙ্খলা ও সংহতির মাধ্যমে এই দুর্যোগ কাটিয়ে আবারও ঘুরে দাঁড়াব।”

চলতি বছরের শুরুতে কারাকাসে প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন থেকে মার্কিন বাহিনী নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে নিয়ে যায়। বর্তমানে তারা নিউইয়র্কে ফেডারেল হেফাজতে রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে মাদক পাচার ও অস্ত্র-সংক্রান্ত অভিযোগে মামলা চলমান রয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো ক্যাবেলো জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বহু ভবন ধসে পড়েছে এবং অবকাঠামোগত ক্ষতির পরিমাণও উল্লেখযোগ্য। তবে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র জানতে আরও সময় লাগবে বলে জানান তিনি।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, বুধবার কারাকাস থেকে প্রায় ২৮৪ কিলোমিটার পশ্চিমে সান ফেলিপের কাছে ৭ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর কিছু সময় পর রাজধানী থেকে প্রায় ২৯৩ কিলোমিটার পশ্চিমে ইউমার অঞ্চলের কাছে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরেকটি শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ইউএসজিএস সতর্ক করে জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পের ফলে ব্যাপক প্রাণহানি ও বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞের আশঙ্কা রয়েছে। সংস্থাটির প্রাথমিক মূল্যায়নে মৃতের সংখ্যা কয়েক হাজারে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ভেনেজুয়েলার কর্তৃপক্ষ হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করেনি। ভূমিকম্পের পর দেশজুড়ে উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধারে সেনাবাহিনী, জরুরি সেবা বিভাগ ও স্বেচ্ছাসেবীরা একযোগে কাজ করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *