মহাখালীতে চাঁদাবাজদের তাণ্ডব: যুবক অপহরণ, নির্যাতন; দাবি ২০ লাখ টাকা!

স্টাফ রিপোর্টার:

রাজধানীর মহাখালী রসুলবাগ এলাকায় চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় মোঃ শরীফ মিয়া (২১) নামে এক যুবককে অপহরণ করে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন চিহ্নিত সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।

ভুক্তভোগী শরীফ মিয়া কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার পূর্ব জাফরাবাদের বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি মহাখালী রসুলবাগ এলাকায় বসবাস করে তার বাবার সঙ্গে একটি চায়ের দোকান পরিচালনা করছেন।

অভিযোগে জানা যায়, স্থানীয় উজাইফা (৩০) ও রোহান (২০) সহ আরও ৩-৪ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে শরীফ ও তার পরিবারের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

১৪ এপ্রিল ২০২৬, দুপুর আনুমানিক ২টা ৪০ মিনিটে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন পেয়ে শরীফ বাসা থেকে বের হলে অভিযুক্তরা তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে মহাখালী রসুলবাগ এলাকার যমুনা গার্মেন্টস সংলগ্ন একটি নিরিবিলি স্থানে নিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। এ সময় তার কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।

চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা তাকে একটি অজ্ঞাত বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে চোখ বেঁধে শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, নির্যাতনের সময় তার পেটে পিস্তল ঠেকিয়ে ভয় দেখানো হয় এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তার পরিবারকে এলাকা ছাড়া করা এবং তাদের চায়ের দোকান দখল করারও হুমকি দেওয়া হয়।

একপর্যায়ে অভিযুক্তরা স্থান ত্যাগ করলে শরীফ মিয়া কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে আসেন। পরে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে এবং চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেয়। পরবর্তীতে তিনি পরিবারের সহায়তায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেন।

চিকিৎসা শেষে পরিবারের সঙ্গে পরামর্শ করে শরীফ মিয়া অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

এ বিষয়ে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার অফিসার ইনচার্জ মাহবুব বলেন, “আমি থানায় নতুন যোগদান করেছি, বিষয়টি জানলাম। আমি বিষয়টি দেখব।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় এমন ঘটনা বাড়ছে। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *