(দুর্ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের)
মোঃআনজার শাহ
রাজধানীর মিরপুরের পাইকপাড়া সরকারি কোয়ার্টারে ঘটে যাওয়া মর্মন্তুদ লিফট দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।
গত ২ অক্টোবর সংঘটিত এ দুর্ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গঠিত কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে এ দুর্ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছে মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. আবু নাছের স্বাক্ষরিত এক আদেশে তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি জানানো হয়। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব আবুল বাকের মো. তৌহিদকে। সদস্য হিসেবে আছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুব আলম এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী (ই/এম) আবদুল্লাহ আল মামুন।
কী খুঁজবে তদন্ত কমিটি?
আদেশে কমিটিকে খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে, লিফটের রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় যথাযথ নিয়ম ও বিধিবিধান মানা হয়েছিল কি না। পাশাপাশি দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করে এর জন্য দায়ী ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
আদেশে আরও বলা হয়েছে, কমিটি প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও সংশ্লিষ্ট বিষয় পর্যালোচনা করে দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণ করবে। রক্ষণাবেক্ষণ, পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের গাফিলতি বা বিধিবহির্ভূত কর্মকাণ্ড ছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় থাকবে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, তদন্ত প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ ও সংশ্লিষ্টদের দায় স্পষ্ট হলে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ তদন্তের মধ্য দিয়ে সরকারি আবাসিক ভবনের লিফটের নিরাপত্তা ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হবে।
ভয়াবহ দুর্ঘটনায় আহত ৩,
গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) সকাল ৬টার দিকে মিরপুর-১ নম্বরের পাইকপাড়া আনসার ক্যাম্পের পশ্চিম পাশে প্রকল্পটির ১ নম্বর ভবনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। লিফটের কেবল ছিঁড়ে বিকট শব্দে তা নিচে পড়ে যায়। ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজন গুরুতর আহত হন।
আহতরা হলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক কর্মচারী মোস্তাফিজুর রহমান (৬২), নাইস আহমেদ (৪০) এবং তাঁর আট বছর বয়সী ছেলে মো. ওয়াসি। দুর্ঘটনার পর আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে আগারগাঁওয়ের জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে নাইস আহমেদের দুই পা ভেঙে গেছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, লিফটটি দীর্ঘদিন ধরে ত্রুটিপূর্ণ ছিল। বারবার সামান্য মেরামতের পর আবার চালু করা হতো। কিন্তু চূড়ান্ত মেরামত বা প্রতিস্থাপনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। দুর্ঘটনার পর থেকে এলাকায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
সরকারি আবাসনের নিরাপত্তা প্রশ্নে উদ্বেগ;
এ দুর্ঘটনার পর সরকারি আবাসিক ভবনগুলোর লিফট ও অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ এবং দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত না হলে এমন দুর্ঘটনা ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে মন্ত্রণালয় থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য সরকারি আবাসন প্রকল্পের লিফট ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা যাচাই-বাছাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।
মন্ত্রণালয় থেকে আরও জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতে যেন এমন দুর্ঘটনা না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সরকারি আবাসিক ভবনগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত পরিদর্শন, রক্ষণাবেক্ষণ এবং প্রয়োজনে আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনাও বিবেচনা করা হচ্ছে।