রঙিন পোস্টার-ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে দেয়াল, মধুপুরের বেরীবাইদ ইউনিয়নে উৎসবমুখর পরিবেশ

কে. এম. তৈয়ব আলী (হীরা):

দেশব্যাপী স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ধীরে ধীরে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হতে শুরু করেছে। দীর্ঘ সময় পর ভোটাররা নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবেন—এমন প্রত্যাশায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মতো টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার নবগঠিত বেরীবাইদ ইউনিয়নেও বইতে শুরু করেছে নির্বাচনী হাওয়া। সম্ভাব্য প্রার্থীদের রঙিন পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে এলাকার রাস্তা, বাজার, গুরুত্বপূর্ণ মোড় এবং বিভিন্ন দেয়াল। প্রার্থীরা ইতোমধ্যে গণসংযোগ, উঠান বৈঠক ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে ভোটারদের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে শুরু করেছেন।

এদিকে গত ফাগুন মাস থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৈরী আবহাওয়ার কারণে কৃষকরা চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েন। কখনও টানা বৃষ্টি, কখনও শিলাবৃষ্টি, আবার কখনও দমকা হাওয়ায় বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দেয়। অনেক কৃষক আধাপাকা ধান দ্রুত কেটে ঘরে তুলতে বাধ্য হন। তবে ধান কাটার আধুনিক মাড়াই যন্ত্র ব্যবহারের ফলে স্বল্প সময়েই অধিকাংশ কৃষক ধান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছেন। বৈশাখের রোদেলা আবহাওয়ায় ধান ও খড় শুকিয়ে ঘরে তোলার কাজও শেষ করেছেন তারা।

ধান ঘরে তোলার পরপরই গ্রামীণ জনপদে শুরু হয়েছে নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক আলোচনা। কৃষিকাজের পাশাপাশি এখন মানুষের মুখে মুখে নির্বাচনের হিসাব-নিকাশ। স্থানীয় হাট-বাজার, চায়ের দোকান, রাস্তার মোড়, এমনকি গ্রামের উঠান বৈঠকেও চলছে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান, সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্য প্রার্থীদের নিয়ে নানা আলোচনা ও বিশ্লেষণ।

একদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বিশ্বকাপের উত্তেজনায় অনেকেই রাত জেগে খেলা উপভোগ করছেন। ফলে গ্রামীণ জনজীবনে এখন নির্বাচন ও খেলাধুলা—দুই উৎসবেরই আমেজ বিরাজ করছে।

কৃষি মৌসুমও থেমে নেই। কোথাও কোথাও নতুন ফসলের বীজতলা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। কৃষকরা যেমন আগামী মৌসুমের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তেমনি ভোটাররাও প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাদের জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য।

অনেক ভোটারের ভাষ্য, দীর্ঘ সময় ধরে তারা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের প্রত্যাশা করে আসছেন। তাদের আশা, এবার তারা নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন। ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি বলেও স্থানীয়রা মনে করছেন।

টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার নবগঠিত বেরীবাইদ ইউনিয়ন ইতোমধ্যেই নির্বাচনী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। চেয়ারম্যান পদে একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। তারা নিয়মিত গণসংযোগ, সামাজিক অনুষ্ঠান, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করে ভোটারদের সমর্থন আদায়ে কাজ করছেন। ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে প্রার্থীদের পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন টানানো হয়েছে, যা পুরো এলাকায় নির্বাচনী আবহ আরও জোরালো করে তুলেছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতিই এবারের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। ভোটাররাও ব্যক্তি সততা, যোগ্যতা, উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততাকে গুরুত্ব দিয়ে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন বলে জানিয়েছেন।

সব মিলিয়ে কৃষকের ঘরে নতুন ধান ওঠার আনন্দের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে নতুন প্রত্যাশা। রঙিন পোস্টার-ফেস্টুনে সাজানো গ্রামবাংলার জনপদ এখন যেন নির্বাচনের উৎসবে মুখর। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে প্রার্থীদের প্রচারণা, ভোটারদের আগ্রহ এবং নির্বাচনী উত্তাপ। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত জনগণের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করে কে বসেন বেরীবাইদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের আসনে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *