রাজউকের নির্দেশ অমান্য করে নির্মাণে আল-আকসা-৩ ভবন কর্তৃপক্ষ

স্টাফ রিপোর্টার:

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইল এলাকায় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) জারি করা নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশনা অমান্য করে বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রাজউকের পক্ষ থেকে অনুমোদিত নকশা দাখিল এবং সকল ধরনের নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার জন্য নোটিশ জারি করা হলেও ভবন মালিক তা উপেক্ষা করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

রাজউকের অথরাইজড অফিসার (জোন-৬/১) আব্দুল্লাহ আল মামুন স্বাক্ষরিত এক নোটিশে উল্লেখ করা হয়, অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিন পরিদর্শনকালে দেখা যায়, যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইল মৌজার আল-আকসা-৩, সামাদনগর এলাকায় জনাব মো. সাহেব আলী একটি বেসমেন্টসহ বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ পরিচালনা করছেন। তবে পরিদর্শনের সময় তিনি রাজউক অনুমোদিত নকশা প্রদর্শন করতে ব্যর্থ হন।

নোটিশে বলা হয়, ইমারত নির্মাণ আইন, ১৯৫২ (সংশোধিত) অনুযায়ী যেকোনো ভবন নির্মাণের আগে রাজউকের অনুমোদিত নকশা থাকা বাধ্যতামূলক। এছাড়া নির্মাণস্থলে অনুমোদিত নকশার একটি কপি সংরক্ষণ এবং নির্মাণ অনুমোদনের তথ্যসংবলিত সাইনবোর্ড প্রদর্শনের বিধান রয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট নির্মাণস্থলে এসব নিয়মের কোনোটি মানা হয়নি।

এছাড়া ঢাকা মহানগর ইমারত বিধিমালা-২০২৫ অনুযায়ী অথরাইজড অফিসারকে নির্মাণকাজ শুরুর বিষয়েও অবহিত করা হয়নি বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাজউক ভবন মালিককে নোটিশ পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে অনুমোদিত নকশা দাখিলের নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে বিষয়টির নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সকল ধরনের নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশনা প্রদান করা হয়। অন্যথায় ইমারত নির্মাণ আইন, ১৯৫২-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণেরও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।

নোটিশের অনুলিপি রাজউকের সদস্য (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ), পরিচালক (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ-২/জোন-৬) এবং যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি)-এর কাছেও পাঠানো হয়। সেখানে সংশ্লিষ্ট নির্মাণাধীন ভবনের সব ধরনের নির্মাণকাজ ও ব্যবহার বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজউকের নির্দেশনা জারির পরও নির্মাণকাজ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। মাঝেমধ্যেই শ্রমিকদের কাজ করতে দেখা যায়।

এতে প্রশ্ন উঠেছে, রাজউকের নির্দেশ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা কতটা কার্যকর এবং আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কি না।

এ বিষয়ে রাজউকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, যদি নোটিশের শর্ত অমান্য করে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে আইন অনুযায়ী ভবন সিলগালা, অবৈধ অংশ অপসারণ, জরিমানা কিংবা ফৌজদারি ব্যবস্থাসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে যাত্রাবাড়ী থানার এসআই জসিম নির্মাণকাজ বন্ধ করার জন্য ঘটনাস্থলে গেলে তাঁকে মোটা অঙ্কের ঘুষ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ঘুষ গ্রহণের পর এসআই জসিম কোনো ব্যবস্থা নেননি।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, রাজধানীতে অনুমোদনহীন বা নিয়মবহির্ভূত ভবন নির্মাণের প্রবণতা বন্ধে শুধু নোটিশ প্রদান নয়, বরং দ্রুত ও দৃশ্যমান আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। অন্যথায় এ ধরনের অনিয়ম ভবিষ্যতে নগর পরিকল্পনা, জননিরাপত্তা ও পরিবেশের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *