রাজউক কর্মকর্তার অঘোষিত সম্পদের ছায়া: উত্তরা জুড়ে আলোচনায় ওমর ফারুকের দুই বিলাসবহুল বাড়ি

নিজস্ব প্রতিবেদক:


রাজধানীর অভিজাত এলাকা উত্তরায় রাজউক (রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ)–এর এক কর্মকর্তার মালিকানাধীন দুইটি বিলাসবহুল বাড়ি ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও এলাকাবাসীর আলোচনায় উঠে এসেছে রাজউকের কর্মকর্তা ওমর ফারুকের নাম। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি চাকরির আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে তিনি এই বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।

স্থানীয়দের দাবি, উত্তরা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত এই দুইটি বাড়ি অত্যাধুনিক নকশা, বিলাসবহুল সুযোগ–সুবিধা ও দৃষ্টিনন্দন কাঠামোর কারণে শুরু থেকেই সবার নজর কাড়ে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, বাড়ি দুটির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ২০ কোটি টাকা, যা একজন মধ্যম সারির সরকারি কর্মকর্তার পক্ষে অর্জন করা প্রায় অসম্ভব বলেই মনে করছেন সচেতন মহল।

এলাকাবাসীরা জানান, রাজউকের একজন কর্মকর্তার এমন সম্পদ অর্জন স্বাভাবিক কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে দীর্ঘদিন ধরেই। তবে এতদিন বিষয়টি আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলেও সম্প্রতি সম্পদের পরিমাণ ও জাঁকজমক প্রকাশ্যে আসায় জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, এই দুইটি বাড়ি কীভাবে, কোন অর্থনৈতিক উৎস থেকে এবং কোন সময়ে অর্জিত হয়েছে—সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা বা স্বচ্ছ বিবরণ পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা বলেন,
“সরকারি নিয়ম অনুযায়ী একজন কর্মকর্তা তাঁর আয়–ব্যয়ের হিসাব দিতে বাধ্য। কিন্তু এখানে আমরা যা দেখছি, তা সাধারণ মানুষের কল্পনার বাইরে। এই সম্পদের উৎস নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজউকের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠানে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ সংস্থাটির ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। একই সঙ্গে এটি রাজধানীর ভূমি ব্যবস্থাপনা, প্লট বরাদ্দ, ভবন অনুমোদন ও নগর উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের আশঙ্কা আরও জোরালো করে তোলে।

উত্তরার এই দুই বিলাসবহুল বাড়িকে ঘিরে অনেকেই বলছেন, এটি যেন রাজউকের ভেতরে গড়ে ওঠা অদৃশ্য ধন–সম্পদের মানচিত্রের একটি দৃশ্যমান প্রতিফলন—যেখানে একদিকে বিত্তের উড়ান, অন্যদিকে স্বচ্ছতার ভয়াবহ ঘাটতি স্পষ্ট।

সুশাসন ও দুর্নীতিবিরোধী সংগঠনগুলোর দাবি, বিষয়টি দ্রুত খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করা। একই সঙ্গে ওমর ফারুকের সম্পদ বিবরণী, আয়কর নথি ও সম্পত্তি অর্জনের প্রক্রিয়া যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে রাজউক কর্তৃপক্ষ বা অভিযুক্ত কর্মকর্তার কোনো বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *