রাবি শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় ক্ষুব্ধ আম্মার, ‘এক ফোঁটা রক্তের হিসাবও নেব’

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার বলেছেন, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘আমার শিক্ষার্থীদের এক ফোঁটা রক্তের হিসাবও আমরা নেব।’

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার প্রতিবাদে রাত ১১টার দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেশন বাজারসংলগ্ন রেললাইনে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ ও বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা।

এ সময় রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আন্দোলনে উপস্থিত ছিলেন। তিনি হামলায় জড়িত কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কেউ ঘটনাস্থলে উপস্থিত না হওয়ায় তাঁর নেতৃত্বে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ‘মার্চ টু রাজশাহী রেলস্টেশন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ রেললাইন ধরে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে অবস্থান নেয়।

সেখানে প্রবেশের পর শিক্ষার্থীদের একাংশ স্টেশনের বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর চালায়। রেলওয়ে থানা, পার্সেল অফিস, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যালয়সহ স্টেশনের বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরসহ শিক্ষক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন।

রাত ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের শান্ত হয়ে স্টেশন ত্যাগ করার অনুরোধ করেন। পরে শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা শেষে রাত ১টা ২০ মিনিটের দিকে শিক্ষার্থীরা স্টেশন থেকে সরে গিয়ে ক্যাম্পাসে ফিরে যান।

এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে সালাহউদ্দিন আম্মার শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে তিনি কোনো ক্ষমা চাইবেন না। তাঁর ভাষ্য, কথায় কথায় শিক্ষার্থীদের গায়ে হাত তোলার প্রবণতা নিয়ে তিনি ক্ষুব্ধ।

আম্মার আরও বলেন, কোনো ক্ষতিপূরণ দিতে হলে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় জড়িতদের কাছ থেকেই তা নেওয়া উচিত এবং মামলা করতে হলে তাঁদের বিরুদ্ধেই করা উচিত। একই পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আমার শিক্ষার্থীদের এক ফোঁটা রক্তের হিসাবও আমরা নেব।’

এদিকে শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় জড়িতদের এক ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার না করলে প্রতিটি ট্রেন থেকে দুজন করে স্টাফ তুলে নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন রাকসুর জিএস। তাঁর ওই বক্তব্যের পর শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ আরও তীব্র হয়।

পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি শান্ত করা সম্ভব হয়েছে এবং তাঁরা ক্যাম্পাসে ফিরে গেছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হওয়ার প্রত্যাশা জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *