মোশারফ হোসেন জসিম পাঠান:
নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় রিপন মিয়া হত্যা মামলার বাদী মো. স্বপন মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিরাপত্তা চেয়ে কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মামলার বাদী। অভিযোগের পর থেকে ভুক্তভোগী পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে দাবি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কেন্দুয়া উপজেলার দলপা ইউনিয়নের জল্লী গ্রামের মৃত সঞ্জু মিয়ার ছেলে মো. রিপন মিয়া একটি হত্যা মামলায় নিহত হন। ওই মামলার বাদী তার ভাই মো. স্বপন মিয়া। ভাই নিহত হওয়ার পর থেকে স্বপন মিয়া বাড়ির পাশে থাকা নিজের মনোহারি দোকানটি পরিচালনা করে আসছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ জুলাই দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে স্বপন মিয়া তার দোকানের ভেতর ঘুমিয়ে ছিলেন। এ সময় একই গ্রামের মো. হায়েছ মিয়ার ছেলে মো. শাহিন (৩০) তাকে নাম ধরে ডাক দিয়ে ঘুম থেকে জাগান। পরে হত্যা মামলাটি আপস-মীমাংসার বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বলা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্বপন মিয়া মামলাটি আপস-মীমাংসায় রাজি না হওয়ায় একপর্যায়ে তার ওপর হামলা ও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় স্বপন মিয়া চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন। পরে স্থানীয়রা তাকে হামলাকারীদের কবল থেকে উদ্ধার করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। পরে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন। স্থানীয়দের কয়েকজন ঘটনার বিষয়ে অবগত থাকার কথা জানিয়ে বলেন, মামলার বাদীকে মারধরের সময় আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা সেখান থেকে চলে যায়।
এ ঘটনায় মো. স্বপন মিয়া বাদী হয়ে কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে মো. শহিদ মিয়াসহ চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।
অভিযোগকারীর দাবি, থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এরপর থেকে হত্যা মামলার বাদী স্বপন মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। যেকোনো সময় তাদের ওপর আবারও হামলা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, একটি হত্যা মামলার বাদী হিসেবে তারা এমনিতেই মানসিক চাপ ও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। তার ওপর মামলা আপস করার জন্য চাপ এবং পরে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। পরিবারটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে তারা দাবি করেন।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারাও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, মামলার বাদী ও তার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। তাই দ্রুত তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়দের পক্ষ থেকে নেত্রকোনা জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জেলা পুলিশ সুপার এবং স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে মামলার বাদী ও তার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্থানীয়ভাবে যারা ঘটনার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন মো. সজিব মিয়া, আনোয়ার হোসেন, মো. খোকন মিয়া, মো. রবি মিয়া, রোকন মিয়া, রফিকুল ইসলাম, মো. মিলন মিয়া, রেনু মিয়া, সফিকুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, কানছন মিয়া, রাজা মিয়া, চন্দন মিয়া, দিন ইসলাম, হাইজুল, মনির মিয়া, পলাশ মিয়া, হাসেম মিয়া, শ্যামল মিয়া, কামরুল মিয়া ও লিটন মিয়াসহ আরও অনেকে।
তবে অভিযোগে উল্লিখিত ব্যক্তিদের বক্তব্য এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জানা সম্ভব হয়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।
এদিকে, ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এলাকায় যেকোনো সময় বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তারা।