মোঃআনজার শাহ :
পোল্যান্ড প্রবাসী জুবায়ের আমিন প্রবাসীদের অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে জোরালো কণ্ঠে কথা বলেছেন। তাঁর ভাষায়, প্রবাসীরা এখন যেন সবাই মিলে “মাথায় কাঠাল ভাঙার” শিকার। বক্তৃতা আর বক্তব্যে প্রবাসীরা সরকারের কাছে রেমিট্যান্স যোদ্ধা, দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি। অথচ বাস্তবতায় নিজ মাতৃভূমিতেই তারা তৃতীয় শ্রেণির নাগরিক।
জুবায়ের আমিন বলেন, বৈধ পথে বেশি রেমিট্যান্স পাঠানোর আহ্বান জানানো হয় ঠিকই, কিন্তু দেশে ফিরলে প্রবাসীদের জন্য ন্যূনতম সম্মান বা সুযোগ-সুবিধা নেই। বিমানবন্দর থেকে শুরু করে সরকারি-বেসরকারি অফিস, সর্বত্র হয়রানি আর ঘুষের অভিযোগ নিত্যদিনের বাস্তবতা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রায় দুই কোটি প্রবাসী আজ নিজ দেশেই উপেক্ষিত।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, কোটা সংস্কার আন্দোলন ও পরবর্তী এক দফার আন্দোলনে শুধু দেশের মানুষ নয়, প্রবাসীরাও সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। রাত জেগে আন্দোলনের খোঁজ রেখেছেন, অর্থনৈতিকভাবে সমর্থন দিয়েছেন। অথচ নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের প্রাক্কালে প্রবাসীদের অধিকার নিয়ে কেউই স্পষ্ট করে কথা বলছে না।
সম্প্রতি ছাত্র আন্দোলনের সময় প্রবাসীরা দেখিয়ে দিয়েছেন, রেমিট্যান্স বন্ধ হলে দেশের অর্থনীতি কতটা নড়বড়ে হয়ে পড়ে। সহমর্মিতা জানাতে প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠানো কমিয়ে দিলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ধস নামে। জুলাই মাসে রেমিট্যান্স নেমে আসে গত ১০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে, যা জুনের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ কম।
ফ্রান্স প্রবাসী জসীমউদ্দীন বলেন, প্রবাসীরা অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখলেও বিমান ভাড়া, রাষ্ট্রীয় সেবা ও মরদেহ প্রেরণের মতো মৌলিক বিষয়গুলো আজও উপেক্ষিত। নিউইয়র্ক প্রবাসী আতাউর রহমান খান বলেন, পরিবারের কাছে কষ্টার্জিত আয় পাঠানোই প্রবাসীদের সুখ, আর দুঃখ হচ্ছে নিজ দেশে অবহেলা।
স্কটল্যান্ড প্রবাসী ইরফানুল হক পাটোয়ারী বলেন, প্রতিটি প্রবাসী একেকজন জীবনযুদ্ধের সৈনিক। করোনা মহামারির সময় প্রবাসীদের নিয়ে কটূক্তি ছিল নিন্দনীয়। এখন সময় এসেছে সুন্দর ব্যবহার, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, আইনি সহায়তা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার।
সবকিছুর পরেও এক সত্য অস্বীকার করা যায় না—প্রবাসীরাই দেশের সম্পদ, আমাদের গৌরব। স্লোগান নয়, এবার প্রয়োজন বাস্তব সম্মান ও কার্যকর উদ্যোগ।