সংবাদির ঐক্যের উৎসব: বিজেইউসি’র ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ সম্মেলন-২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার:-

সংবাদপত্র-টিভি-রেডিও ও অনলাইন সব মাধ্যমের কণ্ঠ এক ছাতার তলে মিলিত হয়ে জাগরণ রচনা করল শুক্রবার বিকেলে বিজয়নগরের হোটেল অরনে আয়োজিত বাংলাদেশ সাংবাদিক ঐক্য পরিষদ (বিজেইউসি) কর্তৃক আয়োজিত “ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ সম্মেলন ২০২৬”। উৎসবমুখর ভিড়, প্রাণবন্ত আলাপন এবং একান্ত মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে সভা সংগঠনের নবজোয়ার বয়ে আনল; যেখানে সাংবাদিক হিসেবে মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করার অঙ্গীকারে সবাই একযোগে দাঁড়ালেন।

মঞ্চে অতিথি ও বক্তারা নানা স্মরণীয় বক্তৃতায় সাংবাদিকতাকে সমাজের দর্পণ ও গণমাধ্যমকে গণতন্ত্রের রক্সোলানা হিসেবে আখ্যায়িত করেন। প্রধান অতিথি, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া যিনি একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদকে ভূষিত বক্তব্যে সাংবাদিক স্বাধীনতার গুরুত্ব ও বিশুদ্ধ পেশাগত নীতির প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। প্রধান আলোচক ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি; তাঁর ভাষণে সাংবাদিকদের সুরক্ষা, পেশাগত শেখার স্বতঃস্ফূর্ত প্রচেষ্টা এবং সমাজকে তথ্যের উচ্চমান উপহার দেয়ার আহ্বান ছিল স্পষ্ট ও ন্যাদু।

সম্মেলনের সূচনাসভায় সভাপতিত্ব করেন বিজেইউসির সভাপতি রাজু আলিম; স্বাগত বক্তব্যে প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সাব্বির আহমেদ রনি নতুন ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ কমিটি ঘোষণা করে সংগঠনের ভবিষ্যৎ কর্মপ্যাঁতি উন্মোচন করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজেইউসির কেন্দ্রীয় নেতারা এবং গণমাধ্যমের বহু পরিচিত মুখ বক্তব্যে তাঁদের প্রত্যেকেই সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা উদ্ধারে ঐক্যবদ্ধকরণ, আইনি ও সামাজিক সহায়তা ব্যবস্থার বিস্তার এবং নীতির ওপর অনড় থাকার বার্তা দেন।

বিশেষ অতিথিদের মধ্যে ছিলেন প্রধান মুখপাত্র খান নজরুল ইসলাম হান্নান, কবি ও সম্পাদক অশোক ধর, কলামিস্ট মীর আব্দুল আলিম, স্থায়ী পরিষদের সদস্য মো. বশিরুজ্জামান খান, শফিকুর রহমান, কাজী ফারুক, এডিটর ফোরামের মহাসচিব ও প্রকাশক ওমর ফারুক জালাল, মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের নেতা আহমেদ আবু জাফর, মিডিয়া জার্নালিস্ট ফোরামের সাঈদ মাহমুদ, আইএইচআরসি’র মঈনুর রশিদ চৌধুরী, আইন সহায়তা কেন্দ্রের শামসুল আলম এবং ক্রিয়অধিকার পরিষদের মো. দুলাল হোসেন। তাঁদের উপস্থিতি ও বক্তব্য সম্মেলনের ভাব ও আধিপত্যকে আরও দৃঢ় করে তোলে।
সম্মেলন জুড়ে ছিল রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার গুরুত্ব, সাংবাদিক নিরাপত্তা, সম্মিলিত কল্যাণমূলক কর্মসূচি এবং ডিজিটাল দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ জোর। বক্তারা বলেন সংবাদকে তথ্য নয়, আদর্শ বানাতে হলে পেশাগত নীতি মেনে চলাই একমাত্র পথ। নতুন কমিটি দ্রুত মাঠে নামবে, সাংবাদিকদের সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধান করবে এবং প্রশিক্ষণ, আইনি সহায়তা ও কল্যাণমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে পেশাকে শক্তিশালী করবে এই আশ্বাসেই শেষ হয় আলোচনা।

সেনসিটিভ সময়ে সাংবাদিকতাকে প্রগতির শ্লোগানে পরিণত করার সংকল্প, হাতের নাগালে থাকা সত্যকে সাহসের সঙ্গে তুলে ধরা এবং এক হয়ে চলার প্রতিজ্ঞায় অনুষ্ঠানটি বিদায় নেয়। উৎসবমুখর এই মিলনভবনে প্রত্যেকের মুখে ছিল আশার দীপ কথার ভিতে নয়, কর্মের প্রতিজ্ঞায় উজ্জ্বল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *