আবদুল আজিজ:
বাংলাদেশ থেকে মরণঘাতি জলাতঙ্ক রোগ নির্মূলের লক্ষ্যে ব্যাপক কর্মসূচী পালন করছে সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা।
জাতীয় জলাতঙ্ক নির্মূল কর্মসূচীর আওতায় ইতিমধ্যে দেশের ৬৪টি জেলায় প্রথম রাউন্ড, ৪৬টি জেলায় দ্বিতীয় রাউন্ড ও ৮টি জেলায় তৃতীয় রাউন্ড এমডিভি কার্যক্রমের আওতায় ২৯ লক্ষাধিক ডোজ জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা কুকুরকে প্রদান করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে তিন রাউন্ড এমডিভি কার্যক্রম দেশের প্রতিটি জেলায় বাস্তবায়ন করা হবে। এরই ধারাবাহিকতায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার জুনোটিক ডিজিজ কন্ট্রোল প্রোগ্রামের আওতায় ১৩ হতে ১৮ জানুয়ারী পর্যন্ত তৃতীয় রাউন্ড এমডিভি (মাচ ডগ ভ্যাকসিন) কার্যক্রম বাস্তবায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার।
সারাদেশের ন্যায় সাতকানিয়া উপজেলাতেও উক্ত কর্মসূচী যথাযথভাবে পালনের উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়।
উক্ত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ১১ জানুয়ারী রবিবার সকাল ১১ দিকে উল্লেখিত কর্মকর্তার কার্যালয়ে এক অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোঃ জসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও মেডিকেল অফিসার ডিজিজ কন্ট্রোল ডা. মোঃ সাদত ইসলাম মিরাজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সামছুজ্জামান।
উপস্থিত উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোঃ মিজানুর রহমান,থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার প্রতিনিধি এএসআই মামুন হোসেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আনিসুল ইসলাম, দৈনিক সাঙ্গুর স্টাফ রিপোর্টার সাংবাদিক মোহাম্মদ বেলাল হোছাইন, উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ, স্বাস্থ্য পরিদর্শক, ১৭ জন সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (এসআই), মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ইপিআই) এবং পরিসংখ্যানবিদসহ বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ
সভায় বলা হয়, জলাতঙ্ক একটি মারাত্মক মরণঘাতী রোগ। বিভিন্ন প্রাণীর কামড়ে ছড়ালেও এই রোগটির সংক্রমণে শতকরা ৯৫-৯৯ ভাগ ক্ষেত্রে কুকুর দায়ী। বাংলাদেশে জলাতঙ্কে মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে শতকরা ৪৭ ভাগ ১৫ বছরের কম বয়সী শিশু। মোট আক্রান্তের প্রায় ৮২ শতাংশ গ্রামে এবং ১৮ শতাংশ শহরে বাস করে। ২০১০ সালের পূর্বে প্রতিবছর বাংলাদেশে প্রায় ২ হাজার মানুষ এ রোগে মারা গেলেও পরবর্তীতে ২০১০ সালে সরকার কতৃক জাতীয় জলাতঙ্ক নির্মূল কর্মসূচী গ্রহণ এবং কার্যকর বাস্তবায়নের ফলে ক্রমশই জলাতঙ্কে মৃত্যুর হার কমে এসেছে। ২০২৪ সালে জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৫৬ জন রোগী।
২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে শতভাগ মরণঘাতী জলাতঙ্ক মুক্ত করার অভিষ্ট লক্ষ্যে দেশে সরকারি-বেসরকারি সংস্থা সমূহের পারস্পরিক সহযোগিতায় নিরন্তন প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
…..
কুকুরের টিকাদান (এমডিভি) কার্যক্রম-২০২৬ সাতকানিয়া উপজেলা অবহিতকরণ সভায় বক্তব্য রাখছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ সামছুজ্জামান।