সায়েদাবাদের আবাসিক হোটেলে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ, নীরব কেন এসআই রাসেল

স্টাফ রিপোর্টার:

রাজধানীর সায়েদাবাদ মাজারের পেছনের এলাকায় আবাসিক হোটেলের আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। একটি ভবন ভাড়া নিয়ে সেখানে পতিতাবৃত্তির আসর বসানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের। তাদের দাবি, শুধু একটি ভবন নয়, সায়েদাবাদ এলাকার একাধিক নামসর্বস্ব আবাসিক হোটেলকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই চলছে নানা ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড।

অভিযোগ রয়েছে, এসব আবাসিক হোটেলে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই মাদক সেবন ও পতিতাবৃত্তির মতো কর্মকাণ্ড চলে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে রাজধানীতে আসা অনেক মানুষ রাতে থাকার জন্য এসব হোটেলে গেলে পরবর্তী সময়ে নানা ধরনের হয়রানি ও লাঞ্ছনার শিকার হন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সায়েদাবাদ মাজারের পেছনের এলাকায় আবাসিক হোটেলের সংখ্যা কম নয়। বাইরে থেকে এসব প্রতিষ্ঠানকে সাধারণ আবাসিক হোটেল মনে হলেও অভিযোগ রয়েছে, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হোটেলগুলোর ভেতরে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষের আনাগোনা, মাদক সেবন এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে স্থানীয় পরিবেশও নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।

অভিযোগের তালিকায় রয়েছে হোটেল রয়েল প্যালেস, নিউ স্বাগতম, হোটেল আল হায়াত, গ্রিন ভিউ, তিতাস রয়েল টুসহ একাধিক আবাসিক হোটেল। এসব হোটেলের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ থাকলেও কার্যকরভাবে বন্ধ করার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না বলে দাবি স্থানীয়দের।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব হোটেলে কক্ষ ভাড়া দেওয়ার পাশাপাশি অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ করে দেওয়া হয়। রাতের বেলায় হোটেলগুলোতে বহিরাগতদের আনাগোনা বেড়ে যায়। অভিযোগ রয়েছে, হোটেলের নির্দিষ্ট কক্ষগুলোতে মাদক সেবনসহ বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলে।

এদিকে এসব কর্মকাণ্ডের বিষয়ে স্থানীয়ভাবে নানা আলোচনা থাকলেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান থাকলে আবাসিক হোটেলের আড়ালে এ ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা সম্ভব হতো না।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এসব হোটেল পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ আদায়ের বিষয়ে। স্থানীয়দের দাবি, হোটেলগুলো থেকে সাপ্তাহিক ও মাসিক ভিত্তিতে টাকা আদায় করা হয়। এ অর্থ আদায়ের সঙ্গে যাত্রাবাড়ী থানার সায়েদাবাদ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই রাসেলের সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে।

হোটেলের মালিক ও ম্যানেজারদের সঙ্গে কথা বললে তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন, তারা যা করেন, তা জেনেশুনেই করেন এবং প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করেই এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হয়।

তাদের বক্তব্যের ফলে প্রশ্ন উঠেছে, যদি এসব হোটেলে নিয়মিতভাবে অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়ে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সম্পর্কে কতটা অবগত এবং কেন কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না?

স্থানীয়দের অভিযোগ, হোটেল ব্যবসার আড়ালে যদি মাদক সেবন ও পতিতাবৃত্তির মতো কর্মকাণ্ড চলে থাকে, তাহলে তা শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়, এর সঙ্গে জননিরাপত্তা ও স্থানীয় পরিবেশের বিষয়টিও জড়িত। ফলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত চিত্র বের করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

এসব অভিযোগের বিষয়ে যাত্রাবাড়ী থানার সায়েদাবাদ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই রাসেলের বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে হোটেলগুলো থেকে সাপ্তাহিক ও মাসিক ভিত্তিতে টাকা আদায়ের অভিযোগ এবং এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যের ভিত্তিতেই বিষয়টি পরিষ্কার হতে পারে। তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, আবাসিক হোটেলের আড়ালে যদি নিয়মিতভাবে মাদক সেবন ও পতিতাবৃত্তির মতো কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়ে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নজরদারি কোথায়?

সায়েদাবাদ এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, আবাসিক হোটেলের নামে পরিচালিত এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম যথাযথভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে হোটেল মালিক ও ম্যানেজারদের বক্তব্যে উঠে আসা ‘প্রশাসনকে ম্যানেজ’ করার দাবিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

তাদের মতে, কোনো হোটেল মালিক বা ম্যানেজার যদি প্রশাসনের কোনো সদস্যকে অর্থ দিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ পাওয়ার দাবি করেন, তাহলে সেটিও তদন্ত করে দেখা দরকার। অভিযোগ সত্য হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

সায়েদাবাদের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আবাসিক হোটেলের আড়ালে মাদক সেবন ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ কতটা সত্য, কারা এর সঙ্গে জড়িত এবং এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনায় কোনো প্রশাসনিক সহযোগিতা বা অর্থ লেনদেন হয়েছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে যথাযথ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *