আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেছে কংগ্রেস। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের ওপর চাপ প্রয়োগের নৈতিক দায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহেরও পদত্যাগ করা উচিত বলে মন্তব্য করেছে দলটি।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির (সিডব্লিউসি) বৈঠকে দলের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এসব দাবি জানান। বৈঠক শেষে দলের সাধারণ সম্পাদক কে সি বেনুগোপাল সাংবাদিকদের বিষয়টি জানান।
কংগ্রেসের অভিযোগ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়েছে এবং এর ফলে বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। দলটি এসআইআর স্থগিত করার পাশাপাশি বাদ পড়া ভোটারদের নাম পুনরায় তালিকাভুক্ত করার দাবি জানিয়েছে।
বৈঠকে কংগ্রেস নেতারা অভিযোগ করেন, এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ করা উচিত ছিল। দলের ভাষ্য, তিনি সেই দায়িত্ব পালন করেননি। এ কারণে তাঁকেও নৈতিক দায় নিয়ে পদত্যাগ করা উচিত।
জ্ঞানেশ কুমারকে নিয়ে কংগ্রেসের অভিযোগ
কংগ্রেসের দাবি, নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। দলটি অভিযোগ করেছে, কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার ঘাটতি রয়েছে এবং এর ফলে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির প্রস্তাবে অবিলম্বে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে চলমান এসআইআর স্থগিত এবং বাদ পড়া ভোটারদের নাম পুনরায় তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে।
কংগ্রেসের এই অবস্থানের পেছনে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের সাম্প্রতিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১০ মাসে নির্বাচন কমিশনের দুই কমিশনার—সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশী—কমপক্ষে ১৪ বার কমিশনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রম নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন।
সুপ্রিম কোর্টেও উঠেছে প্রশ্ন
এদিকে নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম ও সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বে নেওয়া সিদ্ধান্ত নিয়ে করা একটি আবেদন আগামী সপ্তাহে শুনতে সম্মত হয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। আবেদনে কমিশনের তিন সদস্যের সম্মতি বা সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর পর বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে। তবে কংগ্রেসের অভিযোগগুলোর রাজনৈতিক ও আইনি দিক নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অবস্থান ভিন্ন।
আন্দোলনের ঘোষণা কংগ্রেসের
কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ভোটার তালিকা ও ভোটাধিকার নিয়ে ওঠা প্রশ্নের সমাধানে দলটি রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি আদালত ও সংসদেও বিষয়টি উত্থাপন করবে।
আগামী বুধবার বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে নির্বাচন কমিশন ও এসআইআর নিয়ে কংগ্রেসের অবস্থানের সঙ্গে জোটের অন্য শরিকদের অবস্থান কতটা মেলে, সেটিও আলোচনায় আসতে পারে।