সিদ্ধিরগঞ্জে তিতাস গ্যাসের নাটকীয় অভিযান নিয়ে বিতর্ক: ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ

নুরুজ্জামান সাউদ:

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের পরিচালিত একটি বিশেষ অভিযানকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিতর্ক ও জনরোষের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার সকালে সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন নাসিক ৪ নং ওয়ার্ডের আউল্লাবন ও ভূমিপল্লী আবাসিক এলাকায় এই ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করা হয়। তবে অভিযানের ধরন এবং কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

অভিযানের চিত্র ও জনমনে প্রশ্ন
নারায়ণগঞ্জ তিতাস গ্যাসের ম্যানেজার আসাদুজ্জামান আজাদের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে আউল্লাবন এলাকায় মাত্র দেড় ঘণ্টা সময় ব্যয় করা হয়। এরপর তিতাস কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত গোপনে ভূমিপল্লী এলাকায় গিয়ে লোকদেখানো বা দায়সারা গোছের অভিযান চালিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। অভিযানে বকেয়া ও অবৈধ সংযোগের অভিযোগে প্রায় ৫০টি গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

অনিয়ম ও মাসোহারা বাণিজ্যের অভিযোগ
ভূমিপল্লী এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, অতিরিক্ত চুলা ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার নামে তিতাস কর্মকর্তাদের নাম ভাঙিয়ে প্রতি মাসে এলাকা থেকে টাকা সংগ্রহ করা হচ্ছে। যেসব ভবন মালিক নিয়মিত মাসোহারা দিচ্ছেন, তাদের অবৈধ সংযোগগুলো এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, যারা এই অনৈতিক লেনদেনে রাজি হচ্ছেন না, তাদের বৈধ সংযোগগুলোও বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এমনকি অভিযানের সময় তিতাস গ্যাসের ডিজিএম মনজুরুল আজিম মোহনের কাছে সরাসরি অভিযোগ করে এক বাড়ির মালিক জানান যে, তিতাসের কথা বলেই তারা নিয়মিত টাকা দিয়ে আসছেন। তিতাস কর্মীদের এমন আচরণে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী একে পরিকল্পিত নাটক হিসেবে অভিহিত করেছেন। ভুক্তভোগীদের মতে, বিচ্ছিন্ন সংযোগ বা রাইজার পুনরায় স্থাপন করতে গেলে তিতাস অফিসে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ দাবি করা হয়, অন্যথায় বড় অঙ্কের জরিমানার ভয় দেখানো হয়।

কর্মকর্তাদের ভূমিকা ও তিতাসের বক্তব্য
অভিযোগ উঠেছে যে, বর্তমান ম্যানেজার আসাদুজ্জামান আজাদ যোগদানের পর থেকেই এলাকায় তিতাসের অনিয়ম ও দুর্নীতি বৃদ্ধি পেয়েছে। লোকচক্ষুর আড়ালে অভিযান চালিয়ে বড় অঙ্কের অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি অভিযানের তথ্য জানতে চাইলে গণমাধ্যমকর্মীদের সাথেও অসহযোগিতার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসীর ধারণা, গণমাধ্যম উপস্থিত থাকলে অনৈতিক লেনদেনে অসুবিধা হয় বলেই তিতাস কর্তৃপক্ষ গোপনীয়তা অবলম্বন করে।

সার্বিক বিষয়ে তিতাসের ডিজিএম মনজুরুল আজিম মোহন জানান, অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ এবং এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। তিনি স্বীকার করেন যে, অনিয়মের অভিযোগে ইতোমধ্যে তাদের টিমের একজন সদস্যকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি আশ্বস্ত করেন যে, তিতাসের কোনো কর্মকর্তা যদি ব্যক্তিগতভাবে দুর্নীতির সাথে জড়িত থাকেন, তবে তাকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *