মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে পুলিশের বিশেষ অভিযানে এক কেজি গাঁজাসহ ফাহিমা খানম (২০) নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার আষাঢ়িয়ারচর এলাকায় মেঘনা টোল প্লাজার পশ্চিম পাশে পাকা সড়ক থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে সোনারগাঁও থানা পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোঃ হাবিবুর রহমানের নির্দেশনায় এবং সোনারগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ মহম্মদ আব্দুল বারিক, পিপিএমের তত্ত্বাবধানে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন সোনারগাঁও থানার সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) মোঃ আসাদুর রহমান। অভিযানের একপর্যায়ে ৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৫ মিনিটে আষাঢ়িয়ারচর সাকিনস্থ মেঘনা টোল প্লাজার পশ্চিম পাশে পাকা রাস্তার ওপর সন্দেহভাজন অবস্থায় ফাহিমা খানমকে আটক করা হয়। পুলিশের দাবি, আটকের পর তার হেফাজতে থাকা একটি প্যাকেট তল্লাশি করে এক কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাথমিক যাচাই শেষে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ফাহিমা খানম ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা থানার বায়েক ইউনিয়নের চান্দখলা এলাকার বাসিন্দা। তিনি মৃত সোহাগ খানের মেয়ে এবং জুনায়েদ মিয়ার স্ত্রী বলে পুলিশ জানিয়েছে।
মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশের তৎপরতা
সোনারগাঁও থানা পুলিশ জানিয়েছে, মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধে নিয়মিতভাবে উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা, মহাসড়ক ও জনসমাগমস্থলে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় মেঘনা টোল প্লাজার পশ্চিম পাশের সড়কে বিশেষ অভিযান চালানো হয়। পুলিশের ভাষ্য, মাদকদ্রব্যের সরবরাহ ও পরিবহন বন্ধে নিয়মিত অভিযান আরও জোরদার করা হবে। মাদকের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি মাদকবিরোধী কার্যক্রমে স্থানীয়দের সহযোগিতাও কামনা করেছে পুলিশ।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ফাহিমা খানমের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার পর তাকে যথাযথ আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্ধার করা গাঁজা আইন অনুযায়ী জব্দ করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার নারীর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পুলিশের এ ধরনের অভিযান মাদক ব্যবসা ও মাদক পরিবহন নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।