নিজস্ব প্রতিবেদক:
সৌদি আরবে কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ বাংলাদেশির মধ্যে শনাক্ত হওয়া নয়জনের মরদেহ দেশে আনা হয়েছে। বাকি সাতজনের মরদেহ শনাক্ত করে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সৌদি আরব থেকে আসা নয় বাংলাদেশির মরদেহ বিমানবন্দরে গ্রহণের পর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, “আজকে আমরা নয়জনকে আনতে সক্ষম হয়েছি। আরও সাতজনের মরদেহ আনা বাকি। তাদের শনাক্তের কাজ চলছে। আগুনে মরদেহগুলোর অবস্থা অত্যন্ত খারাপ হয়ে যাওয়ায় ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। পরিবারের সহযোগিতায় ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন করে দ্রুত মরদেহগুলো দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে মিশন।”
তিনি আরও বলেন, কোনো মৃত্যুই কাম্য নয়। বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশের জন্য অনেক কষ্ট করে বিদেশে যান এবং পরিবারের জন্য অর্থ পাঠান। দুর্ঘটনার পরপরই প্রধানমন্ত্রী পররাষ্ট্র ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে নিহতদের পরিবারকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা এবং দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছেন।
এদিকে নিহত নয় প্রবাসীর মরদেহ গ্রহণ করতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। সরকার নিহতদের পরিবারকে কী ধরনের সহায়তা দেবে এবং সংশ্লিষ্ট কারখানা কর্তৃপক্ষ সহযোগিতা করছে কি না—এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ওই কারখানার বিষয়ে আমরা এখন উল্লেখ করতে চাই না। তবে আমরা আমাদের ভাইদের হারিয়েছি। তাদের পরিবারের উত্তরাধিকারীদের শনাক্ত করে পারিবারিক অবস্থা বিবেচনায় সরকারের পক্ষ থেকে কী ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে, তা যাচাই শেষে জানানো হবে।”
মন্ত্রী জানান, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নিহত নয়জনের প্রত্যেক পরিবারের জন্য মরদেহ পরিবহন ও দাফন খরচ বাবদ ৩৫ হাজার টাকা এবং এককালীন আর্থিক অনুদান হিসেবে ৩ লাখ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। অর্থাৎ প্রত্যেক পরিবার মোট ৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা করে পাবে।
এ ছাড়া নিহতদের মরদেহ ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে সরাসরি তাদের নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বিদেশে কর্মসংস্থানের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি কর্মপরিবেশের বিষয়েও সরকারের নজর আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, “আমাদের মাথায় সবকিছু আছে। আমরা প্রতিটি বিষয়ে খেয়াল রাখছি।”
বৃহস্পতিবার বিকেলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩৪০ নম্বর ফ্লাইটে সৌদি আরব থেকে নয় বাংলাদেশির মরদেহ দেশে আসে। নিহতদের মধ্যে সাতজনের বাড়ি নওগাঁর আত্রাই উপজেলায়। বাকি দুজনের বাড়ি নাটোর ও রাজশাহীতে।
আত্রাইয়ের নিহতরা হলেন—উদনপৈ গ্রামের মো. ফরিদ, গ-গোহালী গ্রামের রুবেল প্রামাণিক, কলিমউদ্দিন ইসলাম, মোহন আলী ও তার ছোট ভাই সুমন আলী, ডুবাই গ্রামের সোহেল রানা এবং পারকাসুন্দা গ্রামের আব্দুল জলিল সরকার।
এ ছাড়া নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার মহিষডাঙ্গা গ্রামের রবিউল ইসলাম এবং রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার মরুগ্রামের শ্যামল উদ্দিনের মরদেহও দেশে আনা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৯ আগস্ট সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের একটি সোফা কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশি নিহত হন। আঙুলের ছাপ পরীক্ষার মাধ্যমে নিহতদের মধ্যে নয়জনের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। বাকি সাতজনের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার প্রক্রিয়া চলছে।